ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর : দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে তার প্রথম ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীর হর্ষধ্বনি ও করতালির মধ্য দিয়ে ভাষণের শুরুতে তারেক রহমান দেশ গড়ার নতুন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের যেকোনো মানুষ যেন নিরাপদ থাকে সেটাই আমাদের চাওয়া। আজ আমাদের সামনে সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অনেকে বাস করেন, তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়তে চাই।
তারেক রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা পরিহার করে দেশ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিশোধ বা সংঘাত নয়, বরং ইনসাফ ও নিরাপত্তার ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে।৬৩১৪ দিন পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মঞ্চে উঠে তারেক রহমান প্রথমেই মহান রব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মহান রব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।
ভাষণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের বীর সেনানি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের ভাই ওসমান শহীদ হয়েছেন। ওসমান হাদি চেয়েছিলেন, এদেশের মানুষ যেন তাদের হারানো অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পায়। তার সেই স্বপ্ন পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব।”
তারেক রহমান একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাকে এক সুতোয় গেঁথে বলেন, “৭১-এ যারা শহীদ হয়েছে এবং ২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবে যারা প্রাণ দিয়েছে, তাদের রক্তের ঋণ যদি আমাদের শোধ করতে হয়, তবে তাদের সেই প্রত্যাশিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে না পারি, তবে এই আত্মত্যাগ সার্থক হবে না। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান পরপর তিনবার উচ্চারণ করেন— “আমরা দেশের শান্তি চাই।
তিনি বলেন, ৭১-এ মানুষ যেভাবে স্বাধীনতা এনেছিল, ২৪-এ সর্বস্তরের মানুষ একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। মানুষ এখন তাদের কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। তরুণদের নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মই আগামীতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তুলবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া হবে, যেখানে কেউ নিজেকে সংখ্যালঘু বা অনিরাপদ মনে করবে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাখো জনতার উদ্দেশে বলেন, আসুন সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। আমরা সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ। তিনি যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানান এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে ধৈর্যের সাথে মোকাবিলার আহবান জানান।
এর আগে আজ ভোরে তিনি লন্ডন থেকে সরাসরি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং পরে বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ঢাকা পৌঁছান। জনস্রোত ও উৎসবমুখর পরিবেশ: বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত দীর্ঘ পথে তারেক রহমানকে বরণ করতে লাখো মানুষের ঢল নামে। রাস্তার দুপাশের জনস্রোত পেরিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে কুড়িল-বিশ্বরোড ও সংলগ্ন এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভাষণ শেষে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউ কেবিনে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তিনি। আইসিইউ কেবিনে প্রবেশের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় দুই দশক পর মা ও ছেলের এই পুনর্মিলনীতে হাসপাতালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, আগামী শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করার কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :