আজ শুক্রবার ডেট্রয়েটের ক্যাম্পাস মার্টিয়াসে কোয়ানজা উদযাপনের সময় নানু ডিজিয়াপো একটি আফ্রিকান ড্রামের সুর পরিবেশন করছেন/David Guralnick, Detroit News
ডেট্রয়েট, ২৬ ডিসেম্বর : ২০২৬ সালের প্রস্তুতি হিসেবে কুয়ানজা উৎসবের সূচনার সাথে সাথে প্রথম কিনারা মোমবাতি জ্বালানোর মাধ্যমে মনকে উষ্ণ করতে শুক্রবার বিকেলে ঠান্ডা ও মেঘলা আবহাওয়া উপেক্ষা করে কয়েকশ মানুষ ডেট্রয়েটের ডাউনটাউনে একত্রিত হন।
এখন চতুর্থ বছরে পদার্পণ করা বার্ষিক এই অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাস মার্টিয়াসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান ড্রামিং ও নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি কুয়ানজার তাৎপর্য নিয়ে বক্তৃতা করা হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বিশ্বের বৃহত্তম কিনারাটি জ্বালানোর মাধ্যমে।
ডেট্রয়েট–ভিত্তিক নুবিয়ান আর্কিওলজিক্যাল প্রজেক্টের নুবিয়া মোরেনিকে ওয়ার্ডফোর্ড পোলক বলেন, “পশ্চিম আফ্রিকার সানকোফা প্রতীক যেমন আমাদের বলে ‘উৎসস্থলে ফিরে যাও’, তেমনি কুয়ানজা অনেককে তাদের আফ্রিকান ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করেছে এবং সংস্কৃতি ও উদযাপনের মাধ্যমে সম্প্রদায়ের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।” কুয়ানজা উৎসব ১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে ১৯৬৬ সালে এই উৎসব প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎসবটিতে সাতটি নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- ঐক্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সম্মিলিত কাজ ও দায়িত্ব, সমবায় অর্থনীতি, উদ্দেশ্য, সৃজনশীলতা এবং বিশ্বাস যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘নগুজো সাবা’ বলা হয় এবং কিনারার সাতটি মোমবাতি প্রতিদিন একটির পর একটি জ্বালিয়ে এই নীতিগুলোর সক্রিয়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
ডাউনটাউন ডেট্রয়েট পার্টনারশিপের প্রোগ্রামিং ও বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রযোজক নিজা কাই, যিনি বহু স্থানীয় সংগঠনের সাথে এই উৎসবের সমন্বয়কারীদের একজন বলেন, “পরিবার ও সম্প্রদায়ের একত্রিত হওয়ার জন্য এটি একটি প্রিয় সময়। আমরা নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা করি, সম্পর্কগুলোকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি, শিশুদের যুক্ত করি… সত্যিই এটি সৌহার্দ্যের এক অসাধারণ সাত দিন।”
ঠান্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও শুক্রবারের বিপুল অংশগ্রহণ কাইকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ড্রামাররা মঞ্চের সামনে তাল মেলাতে শুরু করার পর মানুষ ধীরে ধীরে ভিড় জমালে তিনি বলেন, “মানুষ আসে— আমরা আশা করি এটি জনসমুদ্র হয়ে উঠবে। অন্যান্য ছুটির মতোই, যখন একটি সম্প্রদায় তার উৎসবকে নিজস্বভাবে ধারণ করে, তখন সেই সম্প্রদায়ের মানুষ তা উদযাপন করতেই ভালোবাসে।”
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের দাবি, ডেট্রয়েটের কিনারা যা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মোটর সিটি কুয়ানজা কিনারা’ নামে পরিচিত— সেটিই বিশ্বের বৃহত্তম। সিটি কাউন্সিলের সদস্য স্কট বেনসন বলেন, ৩০ ফুটের বেশি উঁচু এই কাঠামোটি ডেট্রয়েট এলাকার কৃষ্ণাঙ্গ স্থপতি, প্রকৌশলী ও কাঠমিস্ত্রিদের একটি দল তৈরি করেছেন, এবং বৈচিত্র্য উদযাপনের প্রতীক হিসেবে ডেট্রয়েট একে গর্বের সাথে ধারণ করছে।
ডিস্ট্রিক্ট–৩ কাউন্সিলম্যান বলেন, “যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বৈচিত্র্য উদযাপন থেকে সরে আসছে, ডেট্রয়েট সেখানে একে আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন করছে।” শুক্রবারের অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন জন মেসন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ১০৫.৯ কিস–এফএম–এর সকালের রেডিও হোস্ট এবং ডেট্রয়েট পিস্টনসের পাবলিক অ্যাড্রেস অ্যানাউন্সার।
মেসন স্মৃতিচারণা করে বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি মাওলানা কারেঙ্গার অধীনে পড়াশোনা করেছিলেন। যিনি কুয়ানজার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত এবং তখন ‘রন’ নামে পরিচিত ছিলেন। মেসন অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “সম্মানিত রন কারেঙ্গাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই এবং কুয়ানজা উপভোগ করুন।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :