সিলেট, ৮ জানুয়ারি : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে সিলেট টাইটান্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা ক্যাপিটালস। ব্যাট করতে নেমে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় সিলেট। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন তিনি। ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লে শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৮ রান সংগ্রহ করে সিলেট টাইটান্স, যা ম্যাচে তাদের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
পাওয়ারপ্লে শেষ হতেই ভাঙে সিলেটের ওপেনিং জুটি। তাওফিক খান ২১ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান। পরের ওভারেই থামেন ভালো খেলতে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন। তিনি ২৪ বলে ৩২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। চারে নামা আফিফ হোসেন ধ্রুব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মাত্র ৯ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি।
আফিফের বিদায়ের পর ক্রিজে জুটি গড়েন আরিফুল ইসলাম ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুজনের দায়িত্বশীল ও কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকে সিলেটের ইনিংস। তবে একই ওভারে দুজনই সাজঘরে ফেরেন। আরিফুল ইসলাম ২৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন, আর আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২৩ বলে ৩৩ রানের ঝরঝরে ক্যামিও উপহার দেন।
শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সিলেটের ‘জামাই’ মঈন আলী। তার ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ১৯তম ওভার থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ওই ওভারেই ২৮ রান তুলে নেন মঈন। শেষ ওভারে ৮ বলে ২৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আউট হন তিনি।
তবে শেষ মুহূর্তে ইথান ব্রুকস ও মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় সিলেট টাইটান্স। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে স্বাগতিকরা। শেষ ওভারে আসে প্রয়োজনীয় রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ২ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর ইথান ব্রুকস ৪ বলে ৯ রান করে মাঠ ছাড়েন অপরাজিত থেকে। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে জিয়াউর রহমান সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া নাসির হোসেন, সাইফ হাসান ও ইমাদ ওয়াসিম একটি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পায় ঢাকা ক্যাপিটালস। বেশি আগ্রাসী ছিলেন মামুন। পাওয়ারপ্লের ফায়দা লুটে তুলেছেন রান। ওপেনিং জুটি থেকে চলে আসে ৫৬ রান। ১১ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন মামুন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান নেয় সিলেট। শুরুটা ভালো হলেও জয়ের দেখা পায়নি ঢাকা।
তিনে নেমে এদিন সুবিধা করতে পারেননি আগের ম্যাচে ঢাকার জয়ের নায়ক নাসির হোসেন। ৭ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন নাসির। চারে নামা শামীম হোসেন পাটোয়ারীও সুবিধা করতে পারেননি। ৪ বলে ১ রান করে বিদায় নিয়েছেন শামীম। এরপর ক্রিজে আসেন সাইফ হাসান। গুরবাজের সাথে জুটি বেঁধে এগিয়েছেন সাইফ। কিছুটা উজ্জ্বল মনে হচ্ছিল সাইফকে।
গুরবাজ এগিয়েছেন ধীর ব্যাটিংয়ে। ফিফটি ছুঁয়েছেন। তবে সেই ফিফটি কতটা দলের কাজে লেগেছে তা নিয়ে শঙ্কা আছে। ৪৪ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান গুরবাজ।
গুরবাজের বিদায়ের পর থেকে ধুঁকেছে ঢাকা। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট তুলে ঢাকাকে চাপে রাখেন সিলেটের বোলাররা। মাঝে সাইফ হাসান ১৪ বলে ২২ রান করেছেন। ইমাদ ওয়াসিম ৮ বলে করেন ১২ রান।
শেষ দিকে সাব্বির রহমানের ১৬ বলে ২৫ রানের হার না মানা ইনিংসে ঢাকার হারের ব্যবধান কমেছে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৬০ রান তুলে থেমেছে ঢাকা। ২০ রানে জয়লাভ করেছে সিলেট।
সিলেটের হয়ে ৩ উইকেট নেন সালমান ইরশাদ। ২ উইকেট নিয়েছেন মঈন আলী। ১টি করে উইকেট তুলেছেন রুয়েল মিয়াহ, আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং নাসুম আহমেদ। দিনের প্রথম খেলায় নোয়াখালীকে হারিয়ে রাজশাহী ৪ উইকেট জয়লাভ করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

উৎফল বড়ুয়া :