মাধবপুর (হবিগঞ্জ), ১১ জানুয়ারি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে আওয়ামী লীগের জয়ের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে টার্গেট করে মাঠে নেমেছেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল।
এই আসনের মোট ভোটারের প্রায় ৩৫ শতাংশই চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটার। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এই ভোটের বড় অংশ একতরফাভাবে আওয়ামী লীগের ঝুলিতে গেলেও, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সেই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতে বিএনপি প্রার্থী নতুন কৌশলে এগোচ্ছেন।
হবিগঞ্জ–৪ আসনের অন্তর্গত মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে মোট ২৩টি চা বাগান—এর মধ্যে মাধবপুরে ৫টি ও চুনারুঘাটে ১৮টি। এসব বাগানে বসবাসরত হাজার হাজার শ্রমিক আসন্ন নির্বাচনে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটারের এই আসনে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে কারও দ্বিমত নেই।
চা শ্রমিকরা সাধারণত সহজ-সরল, পরিশ্রমী ও সীমিত আয়ের মানুষ। ভোটের মাঠে তারা বরাবরই ঐক্যবদ্ধ থেকেছেন। বিগত নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ চা শ্রমিক ভোট একই প্রতীকের পক্ষে গেছে। ফলে ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক’ হিসেবেই দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন তারা।
তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দলীয় প্রভাবের বাইরে ব্যক্তি ইমেজ ও পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে এনে চা শ্রমিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল। প্রায় প্রতিদিনই তাঁর ছোট ছেলে সৈয়দ মোঃ শাফকাত আহমেদ শ্রমিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, সরাসরি কথা শুনছেন, গড়ে তুলছেন ব্যক্তিগত সম্পর্ক। যা ভোটারদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ক্রমেই বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। তাদের যুক্তি সৈয়দ মোঃ ফয়সল একজন সর্বজনগ্রাহ্য মানুষ। দল-মত, ধর্ম কিংবা জাতপাত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। অতীতেও তিনি ও তাঁর পরিবার চা শ্রমিকদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, “সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর পরিবার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। বিপদে-আপদে আমরা সবসময় সায়হাম পরিবারকে পাশে পেয়েছি। শুধু আশ্বাস নয়, তারা কাজ করে দেখিয়েছেন। সায়হাম শিল্প কারখানায় বহু চা শ্রমিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এবার আমরা ধানের শীষে ভোট দিতে আগ্রহী।”
সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সুশীল কর্মকার বলেন, “চা বাগান এলাকার মানুষ এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক পিছিয়ে। ভালো স্কুল নেই, চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে হয়। আমরা আশা করি সৈয়দ মোঃ ফয়সল এমপি হলে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। তিনি একজন সৎ ও দানশীল মানুষ এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তাঁকে সমর্থন করছি।”
আমু চা বাগানের শ্রমিক শ্যামলী ভুমিজ বলেন, “বছরের পর বছর আমরা অবহেলিত। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল সবকিছুরই অভাব। কিন্তু সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে আমরা কাছে পেয়েছি। তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে আসেন, সমস্যার কথা শোনেন। তিনি এমপি হলে চা বাগান এলাকার উন্নয়ন হবে এই বিশ্বাস থেকেই এবার ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, “চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে চা বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ ও শ্রমিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। দল নয়, মানুষই আমার রাজনীতির মূল শক্তি।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

রোকন উদ্দিন লস্কর :