আমেরিকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাশ্রয়ী খরচ শুরু! বিমানের টিকিট, হোটেল ভাড়া ও  সেলফোনের দাম কমছে : ট্রাম্প ট্রাম্পের ডেট্রয়েট সফর : ডেমোক্র্যাটদের কড়া সমালোচনা মিশিগানে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা : ‘অর্থনৈতিক উত্থান’ ফোর্ড কারখানায় কটূক্তির জবাবে ট্রাম্পের গালি মিশিগানে ফ্লু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ওয়েইন কাউন্টিতে সংক্রমণ তুঙ্গে ডেট্রয়েটে মানব পাচার প্রতিরোধে হোটেল-মোটেলে হেল্পলাইন সাইনবোর্ড স্থাপন টেনেসিতে দুইজনকে হত্যার অভিযোগে ডেট্রয়েটের যুবক গ্রেপ্তার জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করেছে মট কমিউনিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গুলিতে একজন আহত দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি : হাইকোর্ট শীর্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের সংলাপ, ‘মাননীয়’ সম্বোধন বারণ আগামী সপ্তাহে ডেট্রয়েট  ইকোনমিক ক্লাবের মঞ্চে  ট্রাম্পের ভাষণ স্টার্লিং হাইটসে পার্টিতে গোলাগুলি: ৫ জন আহত অভিজ্ঞ কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের কাঁধে ঢাকার দায়িত্ব ডেট্রয়েটে আইসিই কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা চান কাউন্সিলর সান্তিয়াগো-রোমেরো হার্পার উডসে গুলিতে একজন নিহত, প্রেমিক গুরুতর আহত প্রেমিককে ১৪ বার ছুরিকাঘাত : ক্লিনটন টাউনশিপের নারী দণ্ডিত ডেট্রয়েটে আইসিই-বিরোধী বিক্ষোভ হ্যামট্যাম্যাক শহরে বেগম খালেদা জিয়ার নামে সড়ক নামকরণ মিনেসোটায় হত্যার প্রতিবাদে ডেট্রয়েটে বিক্ষোভ
মূল্যস্ফীতি ও শুল্কের উদ্বেগের মধ্যেও প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক বার্তা

মিশিগানে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা : ‘অর্থনৈতিক উত্থান’

  • আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০১:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০২:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
মিশিগানে ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা : ‘অর্থনৈতিক উত্থান’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ডেট্রয়েটের মোটর সিটি ক্যাসিনোতে ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবের একটি সভায় বক্তব্য রাখছেন/David Guralnick, Detroit News

ডেট্রয়েট, ১৪ জানুয়ারি : গতকাল মঙ্গলবার মিশিগানের বৃহত্তম শহর ডেট্রয়েটে এক বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর নীতির ফলেই ইতোমধ্যে একটি “ট্রাম্প অর্থনৈতিক উত্থান” শুরু হয়েছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও শুল্কনীতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘সাশ্রয়ী মূল্য’ একটি “ভুয়া শব্দ”, যা ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। তিনি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে সরাসরি আক্রমণ করে তাঁকে “একজন নির্বোধ” ও “একজন আড়ষ্ট ব্যক্তি” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, পাওয়েল “শীঘ্রই চলে যাবেন।” সুদের হার নির্ধারণ নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফেড প্রধানের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট উচ্চমূল্যের জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম “দ্রুত কমতে শুরু করেছে” এবং বলেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই প্রশাসন “প্রায় কোনো মুদ্রাস্ফীতি ছাড়াই” “অত্যন্ত উচ্চ প্রবৃদ্ধি” অর্জন করেছে।
মোটরসিটি ক্যাসিনো হোটেলে ৬৪ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, “ফলাফল এসে গেছে, এবং ট্রাম্প অর্থনৈতিক উত্থান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।”
২০২৬ সালের নির্বাচনী বছরের সূচনালগ্নে ডেট্রয়েটে দেওয়া এই বক্তব্যটি আসে ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’ ও ‘ডব্লিউডিআইভি-টিভি’-এর উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপের পর। ২ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মিশিগানের ৬০০ সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৩২ শতাংশ—অর্থাৎ প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন—মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান বা অর্থনীতিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাঁদের খরচ বেড়েছে। মাত্র ১৩ শতাংশ বলেছেন খরচ কমেছে এবং ২২ শতাংশের মতে ব্যয় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। টেলিফোন জরিপটির ত্রুটির হার ছিল প্লাস বা মাইনাস ৪ শতাংশ পয়েন্ট।
এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্য শুরুর দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে মোটরসিটি ক্যাসিনোর সাউন্ড বোর্ড থিয়েটারে ইকোনমিক ক্লাব অব মিশিগান রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে। সেখানে অবার্ন হিলস-ভিত্তিক অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লুসার্ন ইন্টারন্যাশনালের সিইও মেরি বুখজাইগার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক কার্যত এক ধরনের কর। তিনি স্বীকার করেন, স্বল্পমেয়াদে এসব শুল্ক মার্কিন উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে সতর্ক করে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে এটি গাড়ির দাম বাড়াবে এবং আমাদের বাকি বিশ্বের তুলনায় অপ্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।”
তবে ট্রাম্পের দাবি, তাঁর আরোপিত শুল্কগুলো মিশিগানের মানুষকে এবং দেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করে তুলছে। এক পর্যায়ে তিনি ভুলভাবে বলেন, শুল্কের কারণে চীনই আমেরিকার সবচেয়ে বড় করদাতা—যদিও বাস্তবে দেশগুলো সরাসরি শুল্ক পরিশোধ করে না।
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের শ্রমিকরা উন্নতি করছে, এবং আমাদের স্বয়ংচালিত শিল্প দেশে ফিরে আসছে—যেখানে এর সবকিছু শুরু হয়েছিল।” বক্তৃতার শেষে প্রেসিডেন্ট আবারও দাবি করেন, মুদ্রাস্ফীতি “থেমে গেছে” এবং দাম “কমে গেছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে… আমি মনে করি, আপনারা খুব শিগগিরই এমন কিছু দেখতে পাবেন—যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”
তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ডিসেম্বরে ভোক্তামূল্য আগের মাসের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা নভেম্বরের বৃদ্ধির হারেও সমান।

ট্রাম্প পরিদর্শন করলেন ফোর্ড ট্রাক প্ল্যান্ট
 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ সকালে প্রায় ১১:৪৫ মিনিটে এয়ার ফোর্স ওয়ান দিয়ে ডেট্রয়েট মেট্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। অবতরণের পর তিনি ফোর্ড মোটর কোম্পানির ডিয়ারবর্ন ট্রাক প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, ফোর্ডের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান বিল ফোর্ড জুনিয়র, সিইও জিম ফারলে এবং প্ল্যান্ট ম্যানেজার কোরি উইলিয়ামস। পরিদর্শনের সময় একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন কর্মীর চিৎকারে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
এরপর ট্রাম্প ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবের সামনে আনুমানিক ৫০০ জনের উপস্থিতিতে দুপুর ২টায় ভাষণ দেন। তিনি মিশিগানের ব্যবসায়ী নেতাদের “আমেরিকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স। রজার্স সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, “নিরাপদ রাস্তা। সুরক্ষিত সীমান্ত। চাকরি ফিরিয়ে আনা। আমাদের পকেটে আরও টাকা। এবং এটা কেবল শুরু।”
ট্রাম্প বক্তৃতায় দাবি করেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনে মিশিগানে জালিয়াতির কারণে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তিনি রজার্সকে বলেন, “আমার মনে হয় তারা আপনার কাছ থেকে এটি কেড়ে নিয়েছে। তারা আপনার নির্বাচনে কারচুপি করেছে।” রজার্স ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট এলিসা স্লটকিনের কাছে ১৯,০০৬ ভোটে পরাজিত হন এবং দ্রুত পরাজয় স্বীকার করেন।
মিশিগান এ বছর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজ্যে ৩০০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন গভর্নর, নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল, নতুন সেক্রেটারি অফ স্টেট এবং নতুন মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হবেন। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই রজার্সকে সিনেটে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া রাজ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এলাকা রয়েছে, যেখানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য লড়াই করবেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হবিগঞ্জে নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

হবিগঞ্জে নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা