ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনটি অতিব্যস্ত ও তৎপরভাবে সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার ভোরে গুলশানের নিজ বাসায় ফিরেছেন তিনি। মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যে তিনি দেশের সাতটি নির্বাচনী সমাবেশ শেষ করেছেন।
তারেক রহমানের নির্বাচনী যাত্রার সূচনা হয় বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে। সকাল থেকে জনসমাবেশে উপস্থিতি এতই ব্যাপক ছিল যে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, এরপর তারেক রহমান মঞ্চে উঠেন এবং উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে নির্বাচনী বার্তা দেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও দলের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন, এবং পুরো আয়োজনটি ছিল উজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত।
সিলেট থেকে পরবর্তী গন্তব্য মৌলভীবাজারের শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ। পথিমধ্যে তারেক রহমান টানা ভ্রমণ করেছেন, যেখানে প্রতিটি স্টপেজে মানুষের উপস্থিতি তাকে স্বাগত জানিয়েছে। পথচারীরা, স্থানীয় নেতারা এবং সাধারণ মানুষ আগ্রহের সঙ্গে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন, যা নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
এরপর তিনি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা মাঠে যান। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই সমাবেশে উপস্থিত ভোটাররা উদ্দীপনার সঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি দেশের স্বার্থে দলের অঙ্গীকার এবং কৃষক, নারী ও যুবাদের উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সমাবেশে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম ও নরসিংদীর পৌর এলাকায় পরপর অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোতেও একই ধারা দেখা যায়। রাত গভীর হওয়ার পরও সমাবেশগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমেনি; বরং পথ ধরে আগত নেতাকর্মীরা সমাবেশকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
শেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় রাত সাড়ে ৪টায়। সমাবেশের সমাপ্তির পর বিএনপির চেয়ারম্যান বাসায় পৌঁছান বলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান।
এই ১৬ ঘণ্টার টানা যাত্রা, সাতটি সমাবেশ, এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই গতিশীল এবং শক্তিশালী। প্রতিটি সমাবেশই দলের পরিকল্পনা, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা গেছে।
এই প্রচারণা সেশন তারেক রহমানের নির্বাচনী যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেখানে তিনি দেশব্যাপী ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন এবং দলের কার্যক্রমকে নতুন করে সক্রিয় করার বার্তা দিয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :