ওয়ারেন,২৬ জানুয়ারি : শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা বলেছেন, “মা হলেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্ভরতার স্থান, ভালোবাসার চিরন্তন আশ্রয়।” শ্বেত শুভ্রবসনা বিদ্যাদেবী মা সরস্বতী আমাদের কেবল জ্ঞানই দেন না, তিনি মানুষকে মানবিক করে তোলেন, মূল্যবোধে আলোকিত করেন এবং শান্তিপ্রিয়, সুন্দর ও বিশ্বনাগরিক হয়ে ওঠার পথ দেখান। গতকাল রোববার নগরীর শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে আয়োজিত সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবাশীষ মৃধা বলেন, জীবন এক প্রবাহমান নদীর মতো, এখানে থেমে থাকার কোনো সৌন্দর্য নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছন্দে, সুরে ও গানে এগিয়ে চলাই সনাতন ধর্মের মূল প্রজ্ঞা। এই চলার মাঝেই আনন্দ, এই গতির মাঝেই জীবনের সার্থকতা। বিদ্যাদেবী মা সরস্বতী শুদ্ধ জ্ঞান, মুক্ত চিন্তা ও বিশুদ্ধ সংস্কৃতির প্রতীক। তিনি মানবিকতা, মনুষ্যত্ব, সত্য ও সুন্দরের অনন্ত আলোকধারা।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির স্বাভাবিক গতিকে যখন আমরা থামিয়ে দিতে চাই, যখন কেবল পুরোনোকে আঁকড়ে ধরে রাখি, তখনই সমাজে, দেশে দেশে, মানুষে মানুষে সংঘাতের জন্ম হয়। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো এই চিরন্তন, চলমান ও চিরনতুন সনাতনী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা, সমৃদ্ধ করা এবং বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়া।
মা সরস্বতীর বাহন শ্বেত শুভ্র রাজহংসের প্রতীকমূলক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজহংস নোংরার মাঝেও নিজেকে নির্মল রাখে, বিষের মধ্যেও অমৃত খুঁজে নেয়। আমাদেরও হতে হবে সেই রাজহংসের মতো বুদ্ধিদীপ্ত, সংবেদনশীল এবং সুন্দরের সন্ধানী। তাহলেই সমাজ ও সংসারের অসুন্দর, অসুস্থ শক্তির মাঝেও আমরা আনন্দ ও সৌন্দর্যের শক্তিকে খুঁজে পাব।
শ্রীপঞ্চমীর তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দিনটি প্রতিজ্ঞার দিন, স্বপ্ন দেখার দিন এবং আরাধনার দিন। আসুন, আমরা এই দিনে শপথ নেই সুস্থ ও সুন্দর শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করব। আর সেই শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেব। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায়, এই পৃথিবীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যাওয়াই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন প্রমিতা বিশ্বাস, অমিতা মৃধা, সঙ্গীত শিল্পী পৃথা দেব ও চিনু মৃধা। কবিতা আবৃত্তি করেন চন্দনা বানার্জি ও অলক চৌধুরী। সরস্বতী দেবীকে কেন্দ্র করে মন্দিরের পুরোহিত পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এক কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে ড. দেবাশীষ মৃধা প্রথম, সুপর্ণা চৌধুরী দ্বিতীয় এবং চন্দনা বানার্জি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। অনুষ্ঠান শেষে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীসহ বিভিন্ন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেবাদিদেব মহাদেবের ছবি সম্বলিত ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। সুন্দর ও সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সুপর্ণা চৌধুরী।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :