লন্ডন, ৬ ফেব্রুয়ারি : ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র গ্রানাডার সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও গ্রানাডা উভয় দেশই ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে এই প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক বন্ধন প্রতিষ্ঠিত হলো।
বাংলাদেশের পক্ষে লন্ডনে নিযুক্ত হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এবং গ্রানাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে সমঝোতা ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।
হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম এ মুহূর্তকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও গ্রানাডার মধ্যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। এই কূটনৈতিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়া ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশ্বমানের ওষুধ ও বস্ত্রখাতের সক্ষমতা এবং গ্রানাডার কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রানাডার হাইকমিশনার রাচের ক্রোনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ন্যায্যতার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্লোবাল সাউথের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও গ্রানাডা এখন থেকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।
নতুন এই কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :