ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি : পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। আইজিপি বলেন, “কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করতে পারবে না। আমরা সমস্ত ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
আইজিপি মো. বাহারুল আলম মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নানান প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারাদেশে ২৭,৯৯৫টি লাইসেন্সধারী অস্ত্র ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। আরও কিছু অস্ত্র জমা হতে বাকি রয়েছে। কেউ যদি জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইজিপি আরও জানান, “পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। সবার একটাই লক্ষ্য—একটি শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আইজিপি বলেন, “সারাদেশে প্রায় ৭,০০০টি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে আলাদা আলাদা বাহিনী দ্বারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ঝুঁকি থাকলে তা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ
সম্প্রতি শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাকে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, “আমরা অনেক পুলিশ সদস্যকে রিট্রেইন্ড করেছি। পুরনো অভ্যাসগুলো একদিনে বদলানো সম্ভব নয়, তবে ১৫ বছরের দুষ্ট অভ্যাস দূর করার চেষ্টা চলছে। ধৈর্য এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই ভালো কাজ করছেন।”
আইজিপি আরও জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানার অস্ত্র লুট হওয়া এবং এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র ভোটের সময় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে কিনা, তা নিয়ে প্রশাসন সতর্ক। “এখনো ১,৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, নির্বাচনের দিন কোনো প্রভাব পড়বে না।”
ভোটের মাঠে নিরপেক্ষতা
প্রশ্নের উত্তরে আইজিপি বলেন, “পুলিশের কিছু কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতিত্ব দেখান, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। সারাদেশের পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”
নির্বাচনে নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা
আইজিপি আরও বলেন, “যতজন অপরাধী বাইরে থাকুক না কেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করতে কেউ সক্ষম হবে না। আমরা নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি এবং ভোটগ্রহণকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।”
পুলিশের প্রত্যাশা নতুন সরকারের কাছে
আইজিপি মন্তব্য করেন, “নতুন সরকার চাইলে পুলিশ সংস্কার কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে পারবে। কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে পুলিশ আরও দক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :