ভোট দিতে ঢাকার এক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ অপেক্ষা। ছবি: স্বপ্না চক্রবর্তী
ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময় শেষে সম্পন্ন হয়েছে। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে ভোট চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কিছু অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এদিকে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ফলাফল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় দীর্ঘ সারিতে পরিণত হয়। নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী ভোটারের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সারা দেশে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন, কেউ আবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে অংশ নেন ভোট উৎসবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ভোট দেন দেশের নাগরিকরা। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মতামত জানান ভোটাররা। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।
আজকের বহুলপ্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :