বিকাল থেকেই মিশিগানের ওয়ারেন সিটির শিব মন্দির টেম্পল অব জয়, মিশিগান কালী বাড়ি, ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল এবং হ্যামট্রাম্যাক সিটির রাধাকৃষ্ণ টেম্পল ভক্তসমাগমে মুখর হয়ে ওঠে। উপবাস, ব্রত, জপ ও প্রার্থনায় দিনব্যাপী শিবভক্তরা নিমগ্ন থাকেন। শিবলিঙ্গে পবিত্র জল, দুধ, মধু ও বিল্বপত্র অর্পণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মহাদেবের আরাধনা। অনেকে পরিবার-পরিজনসহ মন্দিরে এসে প্রার্থনায় অংশ নিয়ে পারিবারিক কল্যাণ ও বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

সন্ধ্যা গড়াতেই মন্দিরপ্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ, ঘণ্টাধ্বনি ও “ওঁ নমঃ শিবায়” জপে পরিবেশ হয়ে ওঠে অপার্থিব ও শিবময়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে চার প্রহরের পূজা, অভিষেক, কীর্তন ও ধ্যান। নির্জলা উপবাস পালন করে বহু ভক্ত দিবা-রাত্র জেগে থেকে জপ-ধ্যান ও শাস্ত্রপাঠে সময় অতিবাহিত করেন। চার প্রহরে শিবের শিরে জলাঞ্জলি অর্পণের পর ব্রত সমাপন করার প্রাচীন রীতি অনুসরণ করা হয়।
মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে গতকাল নগরীর শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে এক মনোজ্ঞ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অভিজিৎ চক্রবর্তী ও তাঁর দল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে রাহুল দাশের রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক “ওঁ নমঃ শিবায়”। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাহুল দাশ, অরুপ পুরকায়স্থ, অসিত পুরকায়স্থ কমল, ঝন্টু দাশ এবং লাকী পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সৌরভ চৌধুরী। সমগ্র আয়োজন ছিল ভক্তিময় ও উৎসবমুখর।
মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা বলেন, “শিবরাত্রি আমাদের জন্য এক অত্যন্ত পবিত্র সাধনার দিন। উপবাস, প্রার্থনা ও পূজার মাধ্যমে আমরা মহাদেবের কৃপা ও আশীর্বাদ কামনা করি। এই পুণ্যরজনী আমাদের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ভক্তির মাধ্যমে অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।”
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, মহা শিবরাত্রির এই পবিত্র রজনীতে ভগবান শিবের আরাধনা করলে পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধি লাভ হয়। সংযম, উপবাস ও একাগ্র ভক্তির মাধ্যমে এই তিথি ভক্তদের আত্মোপলব্ধি ও অন্তরের পরিশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। শিব ও শক্তির ঐক্যের প্রতীক এই মহিমান্বিত রজনী তাই কেবল একটি উৎসব নয়, এ এক আত্মজাগরণের আহ্বান, ভক্তির গভীর সাধনা এবং চিরন্তন সত্যের পথে অন্তরের নিবেদন।

নিজস্ব প্রতিনিধি :