ওয়ারেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি : আনন্দ, ভালোবাসা ও ভক্তির সম্মিলিত আবহে গতকাল রোববার নগরীরশিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। একই সঙ্গে পালিত হয়েছে মন্দির-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিবাহবার্ষিকী ও জন্মদিন। ধর্মীয় অনুশাসন ও পারিবারিক আনন্দঘন মুহূর্তের এমন সমন্বয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক অনন্য স্মরণীয় আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভক্তিমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় শিবপূজা ও আরাধনা। পূজা-অর্চনা শেষে ভালোবাসা দিবস এবং বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন দুই দম্পতি—মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা ও তাঁর সহধর্মিনী চিনু মৃধা এবং মন্দিরের প্রিস্ট পুর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু ও তাঁর সহধর্মিনী চন্দনা ব্যানার্জী।
একই সময়ে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন ড. দেবাশীষ মৃধা, মন্দির ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য রাখি রঞ্জন রায় এবং সুপ্রভাত মিশিগানে সম্পাদকের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার তন্ময় আচার্য্য। উপস্থিত ভক্ত ও অতিথিরা করতালি ও শুভেচ্ছায় তাঁদের শুভদিনকে আরও আনন্দময় করে তোলেন।
বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন প্রিস্ট পুর্নেন্দু চক্রবর্তী অপু তাঁর সহধর্মিনী চন্দনা ব্যানার্জীর হাতে ডায়মন্ডের আংটি পরিয়ে দেন। উপস্থিত সকলে এই ভালোবাসার প্রকাশকে সাধুবাদ জানান। ভালোবাসা দিবসের আবহে মন্দিরের হলরুম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
আয়োজকরা জানান, ভালোবাসা দিবস সময়ের পরিক্রমায় আজ এক বহুমাত্রিক মানবিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। একসময় এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য সমাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পালিত হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে এ দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। উপহার, ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময়ের মাধ্যমে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ দিনে আনুমানিক প্রায় ৩ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।
ধর্মীয় পরিবেশে ভালোবাসা দিবস উদযাপনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রবাসী বাঙালি সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের মতে, পারিবারিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভক্তি ও ভালোবাসার এমন সমন্বিত উদযাপন প্রবাস জীবনে এক উষ্ণ মানবিক স্পর্শ এনে দিয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :