আমেরিকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেট্রয়েটে ভয়াবহ গাড়ি  দুর্ঘটনায় তিন ওয়েইন স্টেট  শিক্ষার্থী নিহত, আহত ১ প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু গণমাধ্যম ঠিক থাকলে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ সোজা পথে চলবে : ডা. শফিকুর রহমান ক্লিনটন টাউনশিপে পুলিশের ধাওয়া এড়াতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ২ ধর্মীয় নেতাদের সম্মানি প্রদান : প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন পাইলট প্রকল্প মিশিগানে সিনাগগে হামলা, সদস্যরা ভয়কে জয় করে একত্রিত মিশিগানে সিনাগগে গাড়ি নিয়ে ঢুকে গুলি, বন্দুকযুদ্ধের পর হামলাকারীর আত্মহত্যা হামলায় আহত সিনাগগ প্রহরী: অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা দমকা হাওয়ার তাণ্ডব : ওয়ারেনে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় জরুরি সতর্কতা সিনাগগ হামলার পর গভর্নরের বার্তা : ইহুদিবিদ্বেষ সহ্য করা হবে না সিনাগগে ট্রাক হামলার সময় শ্রেণিকক্ষে ছিল ১০৩ শিশু মিশিগানের সিনাগগে হামলার মূল উদঘাটনের প্রতিশ্রুতি দিলেন  ট্রাম্প মিশিগানে ট্রাক নিয়ে সিনাগগে ঢুকে গুলি, বন্দুকধারী নিহত মেট্রো ডেট্রয়েটে উচ্চ বাতাসের সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের দূষিত স্থানের তালিকায় অ্যান আরবারের সাবেক কারখানা ডেট্রয়েটের পশ্চিমাঞ্চলে গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ পিকচার্ড রকস ভাঙচুরে চারজনকে জরিমানা ও পার্কে প্রবেশ নিষিদ্ধ রোমুলাসে ইভি চার্জিং হাব নির্মাণের পরিকল্পনা টেসলার ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ছাত্রনেতা থেকে জনগণের নেতা :  জি কে গউছের গল্প আমার চোখে

  • আপলোড সময় : ২২-০২-২০২৬ ১০:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০২-২০২৬ ১০:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
ছাত্রনেতা থেকে জনগণের নেতা :  জি কে গউছের গল্প আমার চোখে
জি কে গউছ। এই নামটি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে না; এটি হবিগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার এক গভীর প্রতীক। ছাত্র রাজনীতির ময়দানে তাঁর পথচলা শুরু হলেও, সেই দিনগুলোই প্রমাণ করেছিল যে, একদিন তিনি হবিগঞ্জের মানুষের কাছে অনন্যভাবে প্রিয় নেতা হয়ে উঠবেন। ছাত্রনেতা থেকে পৌর মেয়র এবং এখন হবিগঞ্জের জননন্দিত সাংসদ হিসেবে তাঁর জীবন নিঃসন্দেহে সংগ্রাম, ত্যাগ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল ইতিহাস।
ছাত্র রাজনীতিতে জি কে গউছ-এর প্রবেশই ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ছাত্র রাজনীতিতে সাহস, ত্যাগ এবং আপসহীন প্রতিবাদের জন্য পরিচিত তিনি। প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অবহেলিত শিক্ষানীতি নিয়ে প্রতিবাদ, এবং সমাজের ছোট ছোট অসঙ্গতি দূর করার জন্য তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। তার নেতৃত্বে ছাত্রদল সংগঠনটি সব সময় নতুন দিক নির্দেশনা পায়। ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর এই আপসহীন মনোভাব অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলাম তরফদার তনু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, মরহুম আমিনুর রশিদ চৌধুরী এমরান, জালাল আহমদ সহ আরও অনেকে। তাঁরাও সকলেই ব্যবহারে বিনয়ী ও মানবিক এবং রাজনৈতিক জীবনে সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
জি কে গউছ-এর সহজ, অমায়িক এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব মানুষকে আকৃষ্ট করে। তিনি নিজেকে মানুষের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে জানেন এবং শ্রদ্ধাশীল আচরণে নিজেকে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে আপন করে নেন। এই কারণেই ছাত্র জীবন থেকেই তাঁর চারপাশে সমর্থন ও স্নেহের এক শক্তিশালী চক্র তৈরি হয়। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন সাহসী ও আপসহীন নেতার নাম  জি কে গউছ।
২০০৪ সালে আলহাজ্ব জি কে গউছ হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন শহরটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে ছিল। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, স্যানিটেশন, সড়ক মেরামত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকর করার দিকে মনোযোগ দেন। তিনি জোরালো উদ্যোগ নেন যেন শুধু প্রশাসনিক উন্নয়ন নয়, সাধারণ মানুষের জীবনমানেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে।
উদাহরণস্বরূপ, শহরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপিত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এসব পদক্ষেপ ছিল জি কে গউছ-এর প্রশাসনিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বিশ্বাস করতেন, উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান নির্মাণকাজ নয়; বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনার জন্য তিনি নিয়মিত সময় দিতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নিতেন। ফলে নাগরিকরা তাঁকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক ও আস্থার জায়গা হিসেবে অনুভব করত। তাঁর এই মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বই তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো হবিগঞ্জ পৌরসভা-র মেয়র নির্বাচিত হন জি কে গউছ। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শহরের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন। শহরের অবকাঠামোগত পরিবর্তন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি উন্নয়নের এক নতুন ধারা সূচনা করেন। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে হবিগঞ্জ শহরের সামগ্রিক চেহারায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। এছাড়াও তিনি নিয়মিত “ওপেন ডোর” নীতি অনুসরণ করতেন, যেখানে যে কেউ সরাসরি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের সমস্যার কথা জানাতে পারতেন। এই প্রক্রিয়ায় জনগণ তাঁর কাছে কেবল ভোটার হিসেবে নয়, বরং একজন মূল্যবান নাগরিক হিসেবে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ পেত। তাঁর নেতৃত্বে পৌর প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়।
এক সময় জি কে গউছ-এর মানবিক ও মহৎ গুণাবলী সারা শহরে সুপরিচিত সুপরিচিত হয়ে ওঠে। একদিন হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের কয়েকজন নাগরিক তাঁর অফিস কক্ষের বাইরে জুতা রেখে দুই হাত জোড় করে ভেতরে প্রবেশ করেন। জি কে গউছ তখন নিজের চেয়ার থেকে উঠে তাদের কাছে যান, জুতা পরে ভেতরে প্রবেশ করতে বলেন এবং একজনকে তার নিজের চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বললেন, “এটি আপনাদের চেয়ার।” এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে, যা প্রমাণ করে জি কে গউছ-এর সহানুভূতি, নম্রতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা।
মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার জন্য বড় পদমর্যাদা নয়, প্রয়োজন বড় মন। সেই অর্থে পৌর মেয়র জি কে গউছ এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তিনি ক্ষমতার দূরত্বে নয়, মানুষের কাছাকাছি থাকতে বিশ্বাস করতেন। নিজে নাগরিকদের ফোন করে বলতেন “আজ বা কাল আপনার বাড়িতে এসে একসাথে খাবার খাব।” এ যেন কোনো রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক আন্তরিক মানবিক আহ্বান। বিভিন্ন সময় তিনি হঠাৎ করে কিংবা পূর্বঘোষণা দিয়ে সাধারণ নাগরিকের বাড়িতে উপস্থিত হতেন, তাঁদের সঙ্গে একসাথে বসে খাবার গ্রহণ করতেন, কথা বলতেন, খোঁজখবর নিতেন। বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে প্রটোকল ও নিরাপত্তার বলয় নেতাদের সাধারণ মানুষের থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখে, সেখানে তাঁর এই আচরণ ছিল সত্যিই বিরল। এই সরলতা, এই অকৃত্রিম মিশে যাওয়ার মানসিকতাই তাঁকে মানুষের খুব কাছের মানুষে পরিণত করেছে। পদে ছিলেন তিনি মেয়র—কিন্তু আচরণে ছিলেন পরিবারের একজন সদস্য। আর এ কারণেই তিনি শুধু প্রশাসনিক প্রধান নন, অনেকের কাছে হয়ে উঠেছিলেন আপনজন।
আমেরিকায় আসার আগে একদিন তিনি আমাকে ফোন করে বলেছিলেন “দাদা, বৌদির হাতে ভাত খাবে।” সেই কণ্ঠে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল না কোনো রাজনৈতিক ভঙ্গি। ছিল কেবল আন্তরিকতা আর আপন করে নেওয়ার সহজ আহ্বান। কথাগুলো ছিল ছোট, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অগাধ ভালোবাসার স্পর্শ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সময় ও সুযোগের অভাবে সেই আমন্ত্রণ আর পূর্ণতা পায়নি। জীবন অনেক সময় এমনই সব ইচ্ছা পূরণ হয় না, কিছু কথা অপূর্ণ থেকে যায়। তবুও সেই ক্ষণিক উচ্চারিত বাক্য আজও আমার মনে অনুরণিত হয়। স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে, হৃদয়ের ভেতর এক নীরব আলো জ্বালিয়ে দেয়। কখনো কখনো সেই অপূর্ণতার কথা ভাবলে নিজের কাছেই এক অদৃশ্য পীড়া অনুভব করি। তবুও বুঝি, সব স্মৃতি পূর্ণতার জন্য নয়। কিছু স্মৃতি অসম্পূর্ণ বলেই অমলিন থাকে। আর হয়তো সেই অসম্পূর্ণতার মাঝেই তাদের গভীরতা, তাদের স্থায়িত্ব।
২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে, জেলবন্দী থাকা সত্ত্বেও জি কে গউছ বিএনপি থেকে অংশ নিয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। জেলবন্দী থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া সহজ কাজ নয়, কিন্তু তাঁর সংগ্রাম, নীতি এবং জনগণের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, সত্যিকারের জননন্দিত নেতা কেবল শাসনের জন্য নয়, মানুষের জন্য নেতৃত্ব দেয়।
জেল থেকে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, জনগণ নেতার সাহস, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধকে ভোট দিয়ে স্বীকৃতি দেয়। এই জয় শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থনের চূড়ান্ত প্রতীক।
পৌর মেয়র জি কে গউছ এর জীবন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতার অলংকার নয়, এটি মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এক অবিরাম প্রতিশ্রুতি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে পৌরসভা ও সংসদীয় দায়িত্ব, প্রতিটি পর্যায়ে তিনি তার ব্যক্তিত্ব ও নীতি নিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সহজ-সরল, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ত্যাগী এই নেতার কর্মকাণ্ড হবিগঞ্জের জন্য এক স্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি সহজ-সরল, ত্যাগী, ধৈর্যশীল এবং মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে ছিল মানবিক মূল্যবোধ। এই কারণেই তিনি হবিগঞ্জের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান কেবল একটি সময়ের নয় এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এক স্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
১৯৬৮ সালের ২০ এপ্রিল হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম আলহাজ্ব গোলাম মর্তুজা লাল মিয়া এবং মাতা মরহুমা আলহাজ্ব মঞ্জিলা বেগম। পারিবারিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষাই তাঁর রাজনৈতিক চেতনার ভিত গড়ে দেয়।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রায় ২০টি রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়ে ১,৫১৭ দিন কারাভোগ করেছেন। এমনকি কারাগারে তাঁর ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে। তবুও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
১৯৮৪ সালে এসএসসি পাস করে তিনি ভর্তি হন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজে এবং সেখান থেকেই বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরপরই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি ছাত্রদলের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং টানা পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি যুবদল হবিগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০০৪ সালে ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে গোপন ভোটের মাধ্যমে তিনি হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে পুনরায় একই দায়িত্বে মনোনীত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি “দৈনিক আজকের হবিগঞ্জ” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। যা তাঁর সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পৃক্ততার আরেকটি দৃষ্টান্ত।
একজন নেতা হিসেবে তাঁর পথচলা কেবল পদ ও দায়িত্বের তালিকা নয়; এটি সংগ্রাম, আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এক দীর্ঘ ইতিহাস। হবিগঞ্জের মানুষের কাছে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন- একটি আস্থার নাম, একটি নির্ভরতার প্রতীক। সময়ের প্রবাহে পদবী বদলাতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে যে স্থান গড়ে ওঠে, তা স্থায়ী হয় কর্মে ও ভালোবাসায়। সেই অর্থে জি কে গউছের রাজনৈতিক জীবন হবিগঞ্জের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
পৌর মেয়র থেকে জনমানুষের নেতা হয়ে জি কে গউছ হবিগঞ্জ সদর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর এই বিজয় কেবল রাজনৈতিক সাফল্য নয়- এটি জনগণের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের সেবা, মানবিক নেতৃত্ব এবং আস্থার স্বীকৃতি। আশা করি, নতুন দায়িত্বে তিনি জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। তাঁর এই পথচলা শুভ হোক এবং ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডে তিনি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আরও সফল হোন এই কামনারইলো। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। 

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুকুর নির্যাতনের অভিযোগে ইস্টপয়েন্টের তরুণী বিচারের মুখোমুখি

কুকুর নির্যাতনের অভিযোগে ইস্টপয়েন্টের তরুণী বিচারের মুখোমুখি