ঢাকা, ৮ মার্চ : স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, সেটিকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রোববার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এ সময় নারীশিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাপী তাঁর স্বীকৃতি ও সুনামের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। নারী অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও চব্বিশের জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রহসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্যে, শহিদদের স্বপ্ন ছিলো বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ অবদানকারী নারী, এবং গৃহস্থালি কাজ থেকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য। নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া সামাজিক হয়রানি, অনলাইনে চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাল্যবিবাহও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। ১. গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ খালেদা জিয়া, ২. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী নুরুন নাহার আক্তার, ৩. শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মোছা. ববিতা খাতুন, ৪. সফল জননী নুরবানু কবীর, ৫. নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী মোছা. শমলা বেগম এবং ৬. সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে পুরস্কারটি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান বলেন, শত অত্যাচারেও বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অদম্য ও অবিচল। তিনি আরও বলেন, নারী এগিয়ে গেলে জাতিও এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ এমন দেশ হবে, যেখানে সব নারী নিরাপদ থাকবেন। নারী দিবস সাম্য, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারের হোক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :