গত বছরের ২ ডিসেম্বর মিশিগানের বার্টনে, জেনেসী কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ‘GHOST’ ইউনিট একটি ‘রিভার্স স্টিং’ অভিযানে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে/Katy Kildee, The Detroit News
বার্টন, ১৯ মার্চ : জেনিসি কাউন্টি শেরিফের এক ছদ্মবেশী ডেপুটি একটি ম্যাকডোনাল্ডসের ভেতরে একা বসে আছেন। গায়ে হুডি, হাতে একটি ওরিও কুকি ম্যাকফ্লারি—আর অপেক্ষা করছেন তার তথাকথিত ‘ডেট’-এর জন্য।
কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই ডেপুটি এবং তার সহকর্মীরা—যারা ‘GHOST’ (জেনিসি হিউম্যান অপপ্রেশন স্ট্রাইক টিম)-এর সদস্য—অনলাইনে দেওয়া ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে, যারা যৌনতার উদ্দেশ্যে সাড়া দিয়েছেন।
ডিসেম্বরের এক মঙ্গলবার বিকেলে, তার সহকর্মী লেফটেন্যান্ট অ্যান্ড্রু স্নাইডার একজন আগ্রহী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে ওই ব্যক্তি খুব শিগগিরই বুঝতে যাচ্ছেন, তার নির্ধারিত সাক্ষাৎ কোনো ১৫ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে।
দলটি প্রস্তুতি নিতে নিতে স্নাইডার বলেন, “একজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করব।”
তথাকথিত “রিভার্স স্টিং” পদ্ধতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রসিকিউটরদের একটি আক্রমণাত্মক এবং কারও কারও কাছে বিতর্কিত কৌশল, যার লক্ষ্য মানব পাচার প্রতিরোধ করা। বিশেষ করে যৌনকর্মী বা যৌন শোষণের শিকার ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অপরাধ দমনে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।
সমালোচকরা এটিকে ‘ফাঁদ পাতা’ বলে আখ্যা দেন। তবে জেনিসি কাউন্টি শেরিফ ক্রিস সোয়ানসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে একটি সক্রিয় ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। রাজ্য কর্মকর্তাদের মতে, মানব পাচার এখন মিশিগানের ৮৩টি কাউন্টিতেই বিস্তৃত, এবং পাচারকারীরা অনলাইনের সুযোগ নিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
২০১৮ সালে GHOST গঠনকারী ক্রিস সোয়ানসন বলেন, "শিকারিরা তাদের কার্যকলাপ শুরু করে মানুষের জীবন ধ্বংস করার আগেই তাদের শনাক্ত করার জন্য আমাদের একটি সক্রিয় দল গঠন করা প্রয়োজন ছিল। একবার আপনি একজন শিকারিকে গ্রেপ্তার করে চিহ্নিত করতে পারলে, আপনি ২৫ জন ভবিষ্যৎ ভুক্তভোগীর জীবন বাঁচাচ্ছেন।"
মিশিগান জুড়ে প্রসিকিউটররা যৌন ক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে চাহিদা কমানো এবং মানব পাচার রোধে এই নতুন পদ্ধতিতে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি তারা রাজ্যব্যাপী জনশিক্ষা প্রচারণা চালাচ্ছেন, যাতে শিশুসহ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক যৌনকর্ম বা শ্রমের কাজে জড়ানো থেকে বিরত রাখা যায়।
ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "যৌনকর্মের ক্রেতাদের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে কর্তৃপক্ষ মূলত চোখ বন্ধ করে রেখেছে। আমরা মানব পাচার সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি...কীভাবে এটি প্রতিরোধ করতে হয় এবং কীভাবে বন্ধ করা যায়। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেই ব্যক্তিদের জবাবদিহি করানো, যারা পাচারকারীদের খুঁজে বের করে এবং অর্থ প্রদান করে। "... আমরা এখন জানি যে এটি একটি ভুল কাজ, এবং পাচার প্রতিরোধের একটি মূল অংশ হলো সেই ব্যক্তিদের জবাবদিহি করানো।"
মিশিগান অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের হয়ে মানব পাচার ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় বিশেষজ্ঞ মেলিসা পালেপু বলেছেন, তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো মিশিগান তরুণদের অনলাইনে মানব পাচারকারীদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার উপায় সম্পর্কে শিক্ষিত করা হচ্ছে না।
পালেপু বলেন, "কারণ আমাদের স্কুলগুলো এটি শেখায় না। তারা মানব পাচার নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। ফলে আমাদের বাচ্চারা অত্যন্ত অরক্ষিত, কারণ আমরা তাদের কোনো আত্মরক্ষার উপায় শেখাই না। একইভাবে, আমাদের বাবা-মারাও অরক্ষিত, কারণ তাদেরও জানা নেই।"
পালেপু’র সভাপতিত্বে থাকা মিশিগান মানব পাচার কমিশন ২০২৬-২৭ সালের জন্য তাদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে—একটি ব্যাপক জনশিক্ষা অভিযান এবং মিশিগানে মানব পাচার সম্পর্কিত K–12 স্কুল পাঠ্যক্রম তৈরি করা।
পালেপু ‘দ্য নিউজ’-কে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমাদের শিশুদের অনলাইন অ্যাক্সেস এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।" "এই মুহূর্তে আমাদের বাচ্চারা যেন চলন্ত লক্ষ্যবস্তু। তাদের ব্যবহৃত প্রতিটি অ্যাপই পাচারকারীদের জন্য তাদের কাছে পৌঁছানোর এবং তাদের সাথে কথা বলার একেকটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।"
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :