আমেরিকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যেখানে শেষ হয়েছিল জীবন, সেখানেই জেগে রইল জ্যাকোয়ার স্মৃতি বিদ্যুৎ ফিরলেও MSU-তে  কাটেনি বিপর্যয়ের রেশ শরতের শুরুতেই শীতল মিশিগান, সপ্তাহজুড়ে কম তাপমাত্রা নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেট্রয়েটে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সন্দেহভাজন আটক ৩৫ সফরসঙ্গী নিয়ে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার আই-৬৯৬ সংস্কারে অগ্রগতি, বছরের শেষে খুলছে লাহসার–আই-৭৫ অংশ পন্টিয়াকে পারিবারিক বিরোধে গুলিতে নিহত ১, আহত ১ হেফাজতে ন্যাম ভবন থেকে এমপি গাজী নজরুেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দুই জানাজা শেষে চিরনিদ্রায়  শায়িত হলো অপ্রতিম ডেট্রয়েট বিমানবন্দরে একের পর এক ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ আটক লেক ওরিয়ন হাই স্কুলে ব্যাকপ্যাকে গুলিভর্তি বিবি গান, আটক ছাত্রী বঞ্চনার পথ পেরিয়ে খুলনার ডিআইজি রেজাউল করিম গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’: ট্রাম্প ডেট্রয়েটে গাড়ি দুর্ঘটনাকে ঘিরে বর্ণবাদ ও হুমকির অভিযোগ ঢাকায় মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক মিশিগানের অধিকাংশ ভোটার ট্রাম্পের কানাডা শুল্কের বিপক্ষে ১লা নভেম্বর ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে দুর্ঘটনায় মিশিগানের শীর্ষে ১৮½ মাইল-ভ্যান ডাইক
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লক্ষাধিক রোগী : গড় আয়ু ২০ বছরেরও কম

সিকল সেল চিকিৎসার মানোন্নয়নে মিশিগানের নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ

  • আপলোড সময় : ২৪-০৩-২০২৬ ০২:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৩-২০২৬ ০২:৪৬:৫৫ পূর্বাহ্ন
সিকল সেল চিকিৎসার মানোন্নয়নে মিশিগানের নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ
ল্যান্সিং, ২৪ মার্চ : মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (এমডিএএইচএইচএস) সিকল সেল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা মানোন্নয়নের জন্য একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং চিকিৎসা ও থেরাপি গ্রহণের সুযোগ প্রসারিত করা।
সিকল সেল হলো হিমোগ্লোবিন-জনিত একটি বংশগত রোগ, যা মিশিগানের অন্যতম প্রধান জিনগত রোগ হিসেবে পরিচিত। রাজ্যে প্রায় ৪,০০০ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। নতুন পরিকল্পনায় ছয়টি কৌশলগত লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সমগ্র রাজ্যজুড়ে উচ্চমানের ও সমন্বিত চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা; সর্বোত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি বা ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ধারাবাহিক শিক্ষা প্রদান; এবং রোগীর চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করতে মানসম্মত সেবা প্রোটোকল অনুসরণ করা।
এমডিএএইচএইচএস-এর পরিচালক এলিজাবেথ হার্টেল বলেন, “সিকল সেল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ফলাফলের মানোন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিকল্পনা সিকল সেল কমিউনিটির মতামত ও কণ্ঠস্বরকে প্রতিফলিত করে। এটি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ প্রসারিত, তথ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী এবং রাজ্যজুড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের রূপরেখা প্রদান করে।”
সিকল সেল রোগে লোহিত রক্তকণিকাগুলো কাস্তে বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির রূপ ধারণ করে। এর ফলে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং তীব্র ব্যথা, মারাত্মক সংক্রমণ, স্ট্রোক এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দেয়। এই রোগটি মূলত আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বেশি দেখা যায়; তবে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, হিস্পানিক এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বংশোদ্ভূত মানুষরাও আক্রান্ত হতে পারেন।
রাজ্যের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনাটি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এটি মূলত ২০১৫ সালের কৌশলগত পরিকল্পনার ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে।
রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য ‘মিশিগান সিকল সেল ডেটা কালেকশন’ কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হবে।
মিশিগান সিকল সেল ডেটা কালেকশন কর্মসূচির প্রধান গবেষক ডা. সারা রিভস বলেন, “সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো পূরণ, চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করা এবং সিকল সেল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সারা জীবন ধরে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কর্মসূচি তথ্য-উপাত্ত ও বিভিন্ন অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে এমন নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করে, যা নিশ্চিত করে যে—রোগীরা ঠিক যখন প্রয়োজন, তখনই তাদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।”
যুক্তরাষ্ট্রে সিকল সেল রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১,০০,০০০, আর মিশিগান রাজ্যে এই সংখ্যা ৪,০০০-এরও বেশি। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তদের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ বা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের মধ্যে প্রতি ৩৬৫টি জন্মের মধ্যে এক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়।
এই জিনগত বৈশিষ্ট্যের মূলে রয়েছে আটলান্টিক-পারের দাস বাণিজ্য, যখন লক্ষ লক্ষ আফ্রিকান দাসকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই জিনগত পরিবর্তন আফ্রিকাতেই উদ্ভূত হয়েছিল, কারণ এটি ম্যালেরিয়া সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করত।
মিশিগানে সিকল সেল রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব অংশে বসবাস করেন। ওয়েইন কাউন্টিতে ১,০০০-এরও বেশি রোগী বসবাস করেন; এখানে অবস্থিত ডেট্রয়েট শহর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম কৃষ্ণাঙ্গ-অধ্যুষিত নগরী।
সিডিসি-এর তথ্যমতে, সিকল সেল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাশিত গড় আয়ু সাধারণ গড় আয়ুর তুলনায় ২০ বছরেরও বেশি কম। এছাড়া, অনেক রোগী চিকিৎসকের সুপারিশকৃত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছুঁয়ে বিশ্বশিক্ষার অঙ্গনে হ্যামট্রাম্যাকের চার বাংলাদেশি কন্যা

বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছুঁয়ে বিশ্বশিক্ষার অঙ্গনে হ্যামট্রাম্যাকের চার বাংলাদেশি কন্যা