সিলেট, ২৮ মার্চ : মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধকে সিলেট জেলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নবাগত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারত থেকে গরু চোরাচালান বন্ধ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সহকর্মীদের কাছ থেকে মাদক, মানব পাচার, চোরাই পণ্য প্রতিরোধ এবং রাতের বেলা উচ্চগতির ট্রাক ও পিকআপ চলাচলসহ সীমান্তবর্তী থানাগুলোর বিভিন্ন অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সীমান্তবর্তী থানাগুলোর অধিকৃত এলাকায় স্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক ও তরুণদের প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন নই। হাইওয়েতে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এটা যদি নিজের পরিবারের কেউ হতো, তাহলে কেমন লাগতো। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, বডি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে শ্রমিক পাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক চালু রয়েছে। প্রতিদিনই প্রবাসীদের কাছ থেকে অসংখ্য ফোন পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনরা জমি দখল করে নেওয়া বা ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি থাকবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। মতবিনিময় সভায় সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

উৎফল বড়ুয়া :