ইল্লি দিদানি/Michigan Department Of Corrections
ডেট্রয়েট, ৩১ মার্চ : রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একজন আলবেনীয় ব্যক্তি, যিনি একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি গ্রোস পয়েন্ট পার্ক এলাকার এক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (CEO) সঙ্গে মিলে কোকেন পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সাবমেরিন তৈরির ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তাকে আজ মঙ্গলবার ফেডারেল কারাগারে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
৪৮ বছর বয়সী ইল্লি দিদানি, যাকে আধুনিক ইতিহাসে মেট্রো ডেট্রয়েটের অন্যতম কুখ্যাত ও উদ্ভাবনী অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়—তার এই দণ্ডাদেশের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মেট্রো ডেট্রয়েট হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল মাদক ষড়যন্ত্রের কাহিনীর সমাপ্তি ঘটবে। গত বছর তিন মাস ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণে গভীর সমুদ্রে মাদক জব্দের ঘটনা, ৪,০০০ কিলোগ্রাম কোকেন উদ্ধার, বিলাসবহুল যানবাহন, সমুদ্রতীরবর্তী স্থাবর সম্পত্তি এবং শ্যাম্পেন দিয়ে পা ধোয়ার মতো বিলাসিতায় ব্যয় করা বিপুল অর্থের বিস্তারিত চিত্র উঠে আসে।
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেনিস পেজ হুড দণ্ডপ্রাপ্ত এই অপরাধীর সাজা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন—জুরিদের রায়ে তাকে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের দুটি এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার প্রায় ১০ মাস পর।
মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার এই মামলায় বেশ কিছু অদ্ভুত ও বিচিত্র চরিত্রের উপস্থিতি দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছেন মূল হোতা, যিনি বিচার চলাকালীন নিজেই নিজের আইনজীবী হিসেবে লড়েছেন; এক সম্ভ্রান্ত নির্বাহী, যিনি ষড়যন্ত্র চলাকালীন উইসকনসিনের একটি দুগ্ধ খামারে নিজের পুরনো যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন;
এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, যার মালিকানায় মিশিগানের একাধিক 'গোল্ডস জিম' শাখা রয়েছে; এবং নিউইয়র্কের এক রেস্তোরাঁ মালিক, যিনি অপরাধভিত্তিক বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'গুডফেলাস' -এ প্রদর্শিত একটি বিখ্যাত ডাইনার পরিচালনা করেন।
ডেট্রয়েটের ফেডারেল আদালতে বিচার হওয়া অধিকাংশ মাদক মামলার তুলনায় দিদানির কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বরং ইউরোপে পাঠানোর উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। অন্তত ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে ২০২১ সালের মার্চ মাসে দিদানি গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ষড়যন্ত্রে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী পণ্যবাহী জাহাজের মাধ্যমে কোকেন পরিবহন করা হতো। তদন্তে উঠে আসে, দক্ষিণ আমেরিকার মাদক কার্টেল থেকে সংগৃহীত এই কোকেনের অর্থায়ন করেছিলেন গ্রোস পয়েন্ট পার্ক এলাকার টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্টি টিবিটস, এবং পুরো অভিযানের অর্থ লেনদেন পরিচালিত হতো মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে।
মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি মার্ক বিলকোভিচ এবং টিমোথি ম্যাকডোনাল্ড সাজা প্রদানের বিষয়ে আদালতে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে মন্তব্য করেছেন, “দিদানির আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই—এ কথা বলাটা তার অপরাধের ভয়াবহতাকে অত্যন্ত লঘু করে দেখা হবে।”
তবে শুরু থেকেই দিদানি এই মামলার এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্রাম কোকেন আমদানির অভিযোগও যেহেতু তার বিরুদ্ধে আনা হয়নি, তাই এই মামলার বিচার করার এখতিয়ার মার্কিন আদালতের ছিল না।
দিদানির আইনজীবীর মতে, তাকে কেবল একজন কথিত অপরাধ-সম্রাট বা ‘কিংপিন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাস্তবে তিনি একজন স্নেহময় সন্তান, যার মা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তাঁর অপরাধের নথিপত্র বা ‘র্যাপ শিট’ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেখানে মূলত ছোটখাটো অপরাধ বা ‘মিসডিমিনর’-এর উল্লেখ রয়েছে; গুরুতর ‘ফেলনি’ অপরাধের ইতিহাস নেই।
দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত স্মারকলিপিতে দিদানির সদ্য-নিযুক্ত ফৌজদারি আইনজীবী রবার্ট ফাইটেল লিখেছেন, “সরকার যেমনটা দাবি করছে, বিবাদী মোটেও কোনো অনুশোচনাহীন পেশাদার অপরাধী নন। তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করা—যার আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই—সরকারের পক্ষ থেকে করা চরম ও অন্যায় অতিরঞ্জন।”
দিদানির আইনজীবী আদালতের কাছে ১০ বছরের বাধ্যতামূলক ন্যূনতম দণ্ডাদেশের আবেদন জানিয়েছেন। ২০২১ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে বন্দি থাকা দিদানি দণ্ডভোগ শেষে দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্ট হওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
ফাইটেল তাঁর স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রপক্ষের চাওয়া ৩০ বছরের কারাদণ্ড কার্যত বিবাদীকে জীবনের অবশিষ্ট সময় কারাগারেই কাটাতে বাধ্য করবে। এটি সেই নীতির পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছে—দণ্ডাদেশ অবশ্যই যথাযথ হতে হবে, কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত নয়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :