মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) ৭ এপ্রিল : এক সময়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে সুরমা চা বাগান। দীর্ঘ ২৪ দিনের অচলাবস্থার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে বাগানে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। তাদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে সবুজে ঘেরা এই চা বাগান।
বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চারদিকে নেমে এসেছিল এক ধরনের নীরবতা। শ্রমিক পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা। দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল হাজারো শ্রমিক পরিবার আয় বন্ধ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছিল। শিশুদের পড়াশোনা, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সব কিছুই হয়ে পড়েছিল অনিশ্চিত।
তবে সব বাধা কাটিয়ে অবশেষে বাগান চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে শ্রমিকদের মাঝে। সকাল থেকেই প্রায় ২২শ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। বাগানের সবুজ চা গাছের সারির মাঝে এখন দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততা। নারী শ্রমিকরা ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে কচি চা পাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষ শ্রমিকরাও সমানতালে কাজ করছেন বাগানের বিভিন্ন অংশে।
শ্রমিকরা জানান, তারা কাজকেই জীবনের অংশ হিসেবে দেখেন। কাজের মধ্যেই তাদের আনন্দ ও বেঁচে থাকার শক্তি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বাগান খুলে যাওয়ায় তারা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, হঠাৎ করে বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের পাওনা মজুরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে শ্রমিকদের মজুরি নিয়মিত পরিশোধ করা হবে এবং এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না।
বাগানের ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার জানান, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাগান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক কেজি চা উৎপাদনে প্রায় ৩০০ টাকার বেশি খরচ হলেও নিলাম বাজারে তা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যদি চা শিল্পের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে বাগান পরিচালনা সহজ হবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেম বলেন, সুরমা চা বাগানের সমস্যার সমাধানে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বয়ে আলোচনা করে বাগান চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে বাগানের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

মাধবপুর, (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :