ঢাকা, ৮ এপ্রিল : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধিত) অধ্যাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার জারি করা এই অধ্যাদেশটি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংশোধনীসহ পাস করা হয়।
কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয় এবং আজ সেই সংশোধনীসহ অধ্যাদেশটি পাস হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি জানিয়েছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয়; এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকার গঠনের পর তারা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করেছে। শাস্তির বিধান যুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে, গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। ওই দিনই গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই শুরু করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১২ এপ্রিলের পর অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারানোর কথা ছিল।
গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনে পরিণত করার সুপারিশ করে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়, ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত উত্থাপন না করার এবং চারটি রহিত করার সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।
সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্যতম ছিল ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এতে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধন করে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনের আওতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
গত বছরের ৯ মে রাতে এনসিপি নেতারা তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল এতে যোগ দেয়।
১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, পোস্টার-ব্যানার প্রচার, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবে না।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এর আগে অধ্যাদেশে শাস্তির বিধান না থাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে, তা স্পষ্ট ছিল না।
সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ বিষয়ে সংসদের বিশেষ কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সাজার বিধান নেই, তাই শাস্তির বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন—এ সুপারিশের ভিত্তিতেই সংশোধনী আনা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :