কেনটাকিতে একটি ডাকাতির কয়েক সপ্তাহ পর, কৃত্রিম লতাপাতায় আবৃত একটি গোপন ক্যামেরা আবিষ্কৃত হয়/ U.S. Attorney’s Office
গ্র্যান্ড র্যাপিডস, ১১ এপ্রিল : দক্ষিণ আমেরিকার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সর্বশেষ দণ্ডপ্রাপ্ত সদস্যকে ফেডারেল আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে। চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে চুরির কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মিশিগানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি টিমোথি ভারহে বৃহস্পতিবার জানান, গ্র্যান্ড র্যাপিডসের একটি আদালত কলম্বিয়ার নাগরিক জন সেবাস্তিয়ান কুইন্টেরো-হেরেরাকে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাটর্নি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আমরা কেন উদ্বিগ্ন, এই মামলাটি তার আরেকটি উদাহরণ। তারা এখানে কাজের সন্ধানে আসেনি; বরং সারা দেশে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে চুরির একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিল।”
তিনি আরও জানান, “এই পেশাদার চোরেরা মানুষের বাড়িতে হানা দিয়ে ১৫ লক্ষ ডলারেরও বেশি সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো—ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার অনুভূতিকে তারা ভেঙে দিয়েছে।”
সোমবার কুইন্টেরো-হেরেরার আইনজীবী নিকোলাস ডনজিলা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।
তবে আদালতে জমা দেওয়া দণ্ডাদেশ-সংক্রান্ত স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ২৯ বছর বয়সী মক্কেল স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত ধারাবাহিক চুরির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন এবং চুরি করা সামগ্রী বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, “কুইন্টেরো-হেরেরা তাঁর এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং পরিবারের সদস্যদের হতাশ করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, বিবাদীর “পূর্বে কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই; এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং চুরির ঘটনাগুলোর সঙ্গে সহিংসতার কোনো হুমকিও ছিল না।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, কুইন্টেরো-হেরেরাই ছিলেন এই আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের মূল হোতা; চক্রটির সঙ্গে আরও ছয়জন জড়িত ছিল।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চোরচক্রটি অন্তত ২০টি বাড়িতে হানা দিয়েছিল। তারা মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যবস্তু করত, যাদের সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল—বাড়িতেই নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষিত থাকে।
তদন্তকারীরা জানান, দলটি ক্যামেরার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুদের ওপর নজরদারি চালাত এবং তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকার ব্যবহার করত। তারা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করত—কখনো কখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে—এরপর পুরো বাড়ি তছনছ করে লুটতরাজ চালাত।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারীরা নগদ অর্থ, গয়না, নামীদামি ব্র্যান্ডের পার্স ও জুতো, পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন, এমনকি পাসপোর্ট ও বন্ধকী নথিপত্রও লুট করে নিয়ে যায়।
ফেডারেল কর্মকর্তারা জানান, চুরির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তারা মাদকদ্রব্য, নাইটক্লাব এবং ভ্রমণের পেছনে ব্যয় করত।
গত মে মাসে এই চক্রান্তে জড়িত সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করে সাজা পেয়েছেন, তবে একজন এখনো পলাতক রয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কুইন্টেরো-হেরেরাকে গত মার্চ মাসে সাজা দেওয়া হয়েছে।
কুইন্টেরো-হেরেরা ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং সাজা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন— ইয়েসুয়া রামিরেজ-পেরেজ (২৬): চুরি করা সম্পত্তি পরিবহনের ষড়যন্ত্রের দায়ে অভিযুক্ত; ৩৯ মাসের কারাদণ্ড। ইভান চাপারো-পেরেজ (৩১): একই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত; ৪২ মাসের কারাদণ্ড, উইলিয়াম ভিলাররাগা-জোয়া (৩৩): আন্তঃরাজ্য সীমানা অতিক্রম করে চুরি করা সম্পত্তি পরিবহনের দায়ে দোষী; ৯০ মাসের কারাদণ্ড, পল মেন্ডোজা-আরেভালো (৩৯): চুরি করা সম্পত্তি পরিবহনের ষড়যন্ত্রে জড়িত; ৪৮ মাসের কারাদণ্ড এবং ওয়েন্ডি আকোস্তা-আরেভালো (৩১): আন্তঃরাজ্য সীমানায় চুরি করা সম্পত্তি পরিবহনের দায়ে দোষী; ২৪ মাসের কারাদণ্ড।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI)-এর ডেট্রয়েট কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জ্যারেড মারফি এক বিবৃতিতে বলেন, “আসামিদের কার্যকলাপ ছিল সুপরিকল্পিত এবং অত্যন্ত অনুপ্রবেশমূলক, যার ফলে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “HSI সক্রিয়ভাবে দক্ষিণ আমেরিকার সেইসব সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যারা এই চক্রটির মতোই সুকৌশলে একাধিক অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। আমরা তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং আইনের আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করছি। একাধিক অঙ্গরাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এই অপরাধচক্রের সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে পুনরায় নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :