ডিয়ারবর্ন হাইটস, ১৪ এপ্রিল : শহরের একটি আবাসিক চিকিৎসা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে সাবেক রোগীরা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে তারা গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট আদালতে 'ভিস্তা মারিয়া' -এর বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি ল ফার্মের যৌথ উদ্যোগে ছয়জন নারীর পক্ষে এই মামলা করা হয়, যেখানে নির্যাতনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি 'গ্রাওয়াল ল পিএলএলসি'-এর আইনজীবী আয়ানা নীল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রথমদিকে নির্যাতনের শিকার নারীদের অভিযোগগুলো বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়গুলো অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। কিন্তু আমরা যখন আরও বেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলি—যাদের অনেকেই একে অপরকে চিনতেন না এবং ভিন্ন সময়ে ভিস্তা মারিয়ায় অবস্থান করেছিলেন—তখন দেখা যায়, তাদের বর্ণনাগুলো আশ্চর্যজনকভাবে একেবারে মিল রয়েছে। এতে করে এসব অভিযোগ মনগড়া হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই প্রতীয়মান হয়।”
উল্লেখ্য, প্রায় দুই মাস আগে আইনজীবীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা ভিস্তা মারিয়ায় কথিত নির্যাতনের শিকারদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করছেন। প্রায় ১৪০ বছর পুরনো এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি শিশু কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করে আসছে।
আয়ানা নীল বলেন, “ভুক্তভোগীদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল নিরাপত্তার আশায়। কিন্তু বাস্তবে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই আমরা পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।”
মঙ্গলবার ভিস্তা মারিয়ার কোনো মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তবে বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি আইনি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ভিস্তা মারিয়ার অন্তত ৫৫ জন সাবেক আবাসিক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, শৈশবে সেখানে অবস্থানকালে তারা যৌন, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আইনজীবীরা আরও জানান, বর্তমান মামলাটি ছয়জন বাদীর পক্ষে দায়ের করা হয়েছে। তারা ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেছিলেন এবং সে সময় সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। এদের মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক, আর ষষ্ঠজন এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পক্ষে একজন অভিভাবক মামলা পরিচালনা করছেন।
উল্লেখ্য, এই বাদীদের সবাইকে মিশিগান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ-এর মাধ্যমে ভিস্তা মারিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। তাদের পাঠানো হয়েছিল আদালতের নির্দেশে—যেমন কিশোর অপরাধ, অবহেলা বা নির্যাতন সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে—অথবা ‘ফস্টার কেয়ার’ (পালক পরিচর্যা) ব্যবস্থার আওতায়।
গত অক্টোবর মাসে ভিস্তা মারিয়া ঘোষণা দেয় যে, তারা অল্পবয়সী মেয়েদের জন্য পরিচালিত আবাসিক চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা প্রকাশ করেননি। জানা গেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ডিয়ারবর্ন হাইটস পুলিশের সঙ্গে কিছু জটিলতা চলছিল।
এক বিবৃতিতে মুস শাইব বলেন, “এটি কেবল কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনার বিষয় নয়; বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থার চিত্র, যা অরক্ষিত তরুণীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে—যাদের রক্ষা করার দায়িত্ব তাদের ওপরই ছিল।”
তিনি 'মুস ল ফার্ম পিএলএলসি'-এর একজন আইনজীবী এবং এই মামলায় বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী দ্বিতীয় আইনি প্রতিষ্ঠানের সদস্য। তিনি আরও বলেন, “যখন ডজন ডজন ভুক্তভোগী একই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামনে আসেন, তখন তা একটি কাঠামোগত নির্যাতন এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। এই মামলাটি সেই ব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :