ওইদিন রাতে এগ হারবার টাউনশিপের হলি ট্রিনিটি গির্জার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বর্ষবরণ উৎসব ও বৈশাখী মেলা’র বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা , কথামালা, সংগীত, নৃত্য,সম্বর্ধনা, যেমন খুশি তেমন সাজো, র্যাফেল ড্র ও মেলা।

বিকেল থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈশাখী সাজে সেজে উৎসব প্রাংগনে সমবেত হতে থাকে। তাদের রংবেরঙের বৈশাখী সাজে উৎসব প্রাঙ্গন হয়ে ওঠে বোশেখের রঙে রঙিন। ঢাকে কাঠি পড়তেই বেজে ওঠে ঢোল, করতাল, একতারা, দোতারা, মৃদঙ্গ, ভেঁপু সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। সমস্বরে সবাই গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠেন “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…..”।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে উৎসবস্থল প্রদক্ষিণ করেন। এসময় নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।


এরপর মঞ্চে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন জামান রুকু ও মাসুম বাউল। এছাড়া নতুন প্রজন্মের শিশুরা যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাদের বাহারি সাজ সুধীজনের নজর কাড়ে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কিং এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের হাতে সন্মাননা স্মারক তুলে দেন আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তারা। এছাড়া লেখক সাংবাদিক সুব্রত চৌধুরীকে কমিউনিটি সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন বেঙ্গল ক্লাবের কর্মকর্তারা ।

বেঙ্গল ক্লাবের বৈশাখী অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রতিটি প্রবাসী বাঙালির শিকড়ের মিলনমেলায়। ধর্ম, বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রবাসী বাঙালিরা নববর্ষকে সাদরে বরণ করে। অনুষ্ঠানে আরো সংগীত পরিবেশন করেন উত্তর আমেরিকার
জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বিন্দু কণা, নাজু আখন্দ, টিনা রাসেল, স্বপ্নীল সজীব প্রমুখ। তাদের সংগীত পরিবেশনের সময় প্রবাসীরা
নেচে গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বৈশাখী মেলার ষ্টলগুলোতে বেশ ভালোই বিকিকিনি হয়েছে।

সুব্রত চৌধুরী :