উদ্বোধনী বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম রহমান জহির বলেন, গত ৩০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এশিয়ান এক্সপো সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমদ আশরাফ বলেন, এই এক্সপোতে সবার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
কনভেনর তামান্না আহমেদ সকলকে দুই দিনের এশিয়ান এক্সপো উপভোগ করার আহ্বান জানান। ফেস্টিভ্যাল কমিটির চেয়ারম্যান এস আই জুয়েল বলেন, একটি দক্ষ ও সমন্বিত কমিটির প্রচেষ্টায় এই আয়োজন সফল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতা এবং স্পন্সরদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছাড়া এ সাফল্য সম্ভব হতো না।
১ম দিন, ২৫ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকরা উপভোগ করেন। ফেয়ারগ্রাউন্ডজুড়ে ছিল নানা স্টল ও খাবারের দোকান, যেখানে মুখরোচক খাবারের সমারোহ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রবাসীরা ফেয়ারগ্রাউন্ডে ভিড় জমান; কেনাকাটার পাশাপাশি তারা নানান সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করেন এবং এশিয়ান এক্সপোর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। হাজারো প্রবাসীর পদচারণায় ৩০তম এশিয়ান এক্সপোর পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রথম দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন ব্যান্ড ‘ফিডব্যাক’-এর শিল্পী রোমেল এবং ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী কেকা। রোমেলের পরিবেশনা ছিল অনন্য ও প্রাণবন্ত, আর কেকা তার পরিবেশনায় পুরো দর্শকসমাগমকে মুগ্ধ করে রাখেন।
দ্বিতীয় দিনে দুপুর থেকেই শুরু হয় নানা আয়োজন ও কার্যক্রম। দুপুরের পর থেকেই খাবারের স্টলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফেয়ারগ্রাউন্ডের মূল মঞ্চ ও বিভিন্ন স্টলেও ছিল দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। নেপা হোলসেলের আকর্ষণীয় স্টলে অনেককে আড্ডা দিতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, নেপা এ বছরের গ্র্যান্ড স্পন্সর ও পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল।
তিন দিনব্যাপী ৩০তম এশিয়ান এক্সপো ফেস্টিভ্যালের অংশ হিসেবে ২৪ এপ্রিল শুক্রবার স্পন্সর ও বিশেষ অতিথিদের সম্মানে একটি গালা ডিনারের আয়োজন করা হয়। ওয়েস্ট পাম বিচের হিলটন ওয়েস্ট পাম বিচ এয়ারপোর্ট হোটেলের হলরুমে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত অতিথি, ডোনার ও স্পন্সররা উপস্থিত ছিলেন। গালা ডিনারে বিশিষ্ট উদ্যোক্তাদের ‘বিজনেস অ্যাপ্রিসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
২য় দিন, রোববার অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার সভাপতি এম রহমান জহির বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্পন্সর, ভেন্ডর, মিডিয়া, শিল্পী, মিউজিশিয়ান এবং হোস্ট কমিটির একটি বিশাল দলের সমন্বয়ে ৩০তম এশিয়ান এক্সপো সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
৩০তম এক্সপোর চেয়ারম্যান এস আই জুয়েল উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হোস্ট কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এত বড় আয়োজন সফলতা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই এক্সপোর মাধ্যমে এশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কনভেনর তামান্না আহমেদ বলেন, এই ফেস্টিভ্যালকে সফল করতে এম রহমান জহির ও আরিফ আহমদ আশরাফের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনই এ আয়োজনের মূল শক্তি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে আরও বড় ও সফল এক্সপো আয়োজন করা হবে। এছাড়া ছোট-বড় বহু শিল্পী ও তাদের পরিবারের অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান, শতাধিক শিল্পী এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
উদ্বোধনী মঞ্চে সকল গ্র্যান্ড স্পন্সরদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। স্পন্সরদের অনেকেই শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানার কনভেনর ড. জয়নাল চৌধুরী এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। তারা দুজনই ৪০তম লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানায় অংশগ্রহণের জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানান।

তৃতীয় দিন, রোববার বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয় বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এশিয়ার নানা দেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। বৃষ্টির মধ্যেও মায়ামির বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসীরা ফেয়ারগ্রাউন্ডে আসতে থাকেন। শত শত, হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণবন্ত। খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয় স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনা। টিপুর কারিগরের পরিবেশনা ছিল বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর, যা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতিকুর রহমানের গ্রন্থনায় এবং একঝাঁক শিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত ২০ মিনিটের একটি গীতিনাট্য ফেস্টিভ্যাল দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।
সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস মঞ্চে পরিবেশনা করেন। তিনি একাধিক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
এছাড়া সেরেনিটি হেলথ সিস্টেমের উদ্যোগে একটি র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রি র্যাফেল টিকিটের মাধ্যমে লটারির ভিত্তিতে তিনটি টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
রাত ৯টায় মঞ্চে আসেন এই সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী আরজিন। তার চমৎকার পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রাত সাড়ে ৯টায় এক্সপোর বিভিন্ন স্পন্সরদের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন এক্সপো চেয়ারম্যান এস আই জুয়েল।
রাত ১০টায় মঞ্চে আসেন সংগীতশিল্পী বিশ্বজিৎ। প্রায় ৪৫ মিনিটের পরিবেশনায় তিনি বাংলা ও হিন্দি গানের সমন্বয়ে দর্শকদের মন জয় করেন। দর্শকদের সঙ্গে মিশে তার প্রাণবন্ত পরিবেশনা ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
রাত সাড়ে ১০টায় মঞ্চে আসেন ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী শ্রুতি। তিনি একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করেন। বিশ্বজিৎ ও শ্রুতির পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। শ্রুতির গানের মধ্য দিয়েই ৩০তম এশিয়ান এক্সপো ফেস্টিভ্যালের সমাপ্তি ঘটে। চমৎকার উপস্থাপনার জন্য উপস্থাপক মাইশাকে ক্রেস্ট প্রদান করেন বিশ্বজিৎ ও শ্রুতি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এস আই জুয়েল ও এম রহমান জহির সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুই দিনব্যাপী এশিয়ান এক্সপোর সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এ বছরের এক্সপোতে দুই শতাধিক শিল্পী অংশগ্রহণ করে তাদের পরিবেশনায় পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। এবারের ৩০তম এশিয়ান এক্সপো ফেস্টিভ্যালে মিডিয়া কাভারেজে ছিল টাইম টিভি, সময় টিভি, এনটিভি, বাংলা ভিশন ও প্রথম আলো।
৩০তম এশিয়ান এক্সপো ফুড অ্যান্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যালের দুই দিনের আয়োজনে আগত অতিথি ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে হিলটন হোটেল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শনিবার ও রোববার রাতে সেখানে বসে জমজমাট গানের আসর।
হোস্ট কমিটির আন্তরিক আতিথেয়তা এবং সুপরিকল্পিত আয়োজন ছিল প্রশংসনীয়; কোথাও কোনো ঘাটতি চোখে পড়েনি। বিশেষ করে সভাপতি এম রহমান জহির সার্বক্ষণিকভাবে অতিথিদের সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিলেন। চেয়ারম্যান এস আই জুয়েলও নানা ব্যস্ততার মাঝেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত অতিথিদের আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করেন। কানসাস, আটলান্টা, ভার্জিনিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ফ্লোরিডার বিভিন্ন শহর থেকে আগত অতিথিরা পুরো তিন দিনের এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
৩০ তম এশিয়ান এক্সপো কে সফল করতে অনেকেই জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম যারা ছিলেন- মনজুর চৌধুরী, মোহাম্মদ আলমগীর, সাজ্জাদ হোসেন, জুয়েল সাদত, আলী আক্কাস, কাজী সুলতানা, আনোয়ারুল করিম, কামরুল চৌধুরী, মিজানুর রহমান, মেরিনা মজুমদার, আনিসুর রহমান শামীম, মনিরুল ইসলাম, লিরা রহমান, নাজমুল হাসান মুস্তফা, মাসুদা ইসলাম পপি, আব্দুল জলিল, আবু আকবর, মাইশা আহমেদ, সিমান্ত, রাইসা উদ্দিন, ইমারাইদ খান,শাকিল, জয়তি, এস ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল ইসলাম, মনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ এন সাদাত, সীমা কুন্ড, তাহমিনা আনিস রীমা, সোহাগ, অনিক দেব, আতিকুর রহমান, রাসেল মূর, তাজুল ইসলাম, কামরুল চৌধুরী মোহাম্মদ রনি, সৈয়দ কামাল প্রমুখ।

জুয়েল সাদত :