নিউইয়র্ক, ১৭ মে : নিউইয়র্ক ভিত্তিক 'ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি' (FIT) তাদের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ‘গ্লোবাল ফ্যাশন ম্যানেজমেন্ট’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ‘বব ফিশ এন্টারপ্রেনারিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ ঘোষণা করেছে। অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে লেখক ও উদ্যোক্তা Bob Fish-এর নামানুসারে। মোট ১২টি দলের দুই বছরের নিরলস পরিশ্রমের পর FIT-এর বব ফিশ প্রেজেন্টেশন হলে এই সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
‘বব ফিশ এন্টারপ্রেনারিয়াল অ্যাওয়ার্ডস’ গ্লোবাল ফ্যাশন ম্যানেজমেন্ট মাস্টার্স অব প্রফেশনাল স্টাডিজ এবং ফ্যাশন ডিজাইন এমএফএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদত্ত ২৫ হাজার ডলারের এ পুরস্কারটি এবার পঞ্চমবারের মতো প্রদান করা হলো। দুজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে গঠিত ‘Taatistudio’ (তাঁতিস্টুডিও) দলটি এবারের এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছে।
মো. আশিকুর রহমান (আসিফ), মো. ইয়াসিন মিয়া এবং সোমদত্ত দাস—এই তিনজন মিলে তাদের উদ্ভাবনী ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন আসিফ। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি নটরডেম কলেজের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এছাড়াও তিনি বাংলাদেশে থাকাকালে আকিজ, স্কয়ার এবং থারমেক্স গ্রুপে কর্মরত ছিলেন।
তাঁতিস্টুডিও দলের সদস্যরা জানান, এই পুরস্কারটি বাংলাদেশের কারুশিল্পীদের প্রতি উৎসর্গীকৃত। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে ‘লাক্সারি প্রোডাক্ট’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলে ধরার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
উল্লেখ্য, এই মাস্টার্স প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ১২টি দল অংশ নেয়। কয়েক ধাপের উপস্থাপনা শেষে বিচারকদের ভোটে ৬টি দল Bob Fish-এর সামনে তাদের চূড়ান্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনের সুযোগ পায়। সেখান থেকেই ‘তাঁতিস্টুডিও’ দলটি এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়।
আসিফ জানান, মুঘল আমল থেকে বাংলার কাপড় ও বুননশিল্পের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তারা মূলত গল্প বলার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং তাঁতশিল্পীদের জন্য একটি টেকসই বাজার তৈরি করে তাদের পেশাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। এ ধারণাকে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হয়েছে, যা পরবর্তীতে হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ডে অধ্যয়ন করা বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
দুই বছরব্যাপী মাস্টার্স কোর্স চলাকালে তারা ফ্রান্স, হংকং, চীন ও মেক্সিকোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে অংশ নেন। সেসব দেশে হাতে তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা দেখে বাংলাদেশের তাঁত ও কারুশিল্পকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই তারা এই প্রকল্পটি তৈরি করেন। আসিফ জানান, তারা ইতোমধ্যে কিছু অগ্রিম অর্ডার পেয়েছেন এবং অসাধারণ সাড়া পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই অর্জন নিঃসন্দেহে পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কামরুজ্জামান হেলাল :