প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষজন খাদ্য সহায়তা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওয়ারেনের ‘হারভেস্ট টাইম ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ’-এ প্রবেশ করছেন, ছবিটি শুক্রবার, ২৯ মে ধারণ করা হয়/Jose Juarez, Special To Detroit News
ওয়ারেন, ৩১ মে : ওয়ারেনের একটি চার্চ ও এর যাজক (প্যাস্টর) শহরের বিরুদ্ধে ‘হয়রানি’র অভিযোগ এনে ওয়ারেন সিটি কর্তৃপক্ষ এবং মেয়র লরি স্টোনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ৯ মাইল রোডে অবস্থিত অসাম্প্রদায়িক চার্চ ‘হারভেস্ট টাইম ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ’ গত ১৯ মে মিশিগানের পূর্বাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন জেলা আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শহর কর্তৃপক্ষ ওই চার্চটির (যেখানে একটি 'ফুড প্যান্ট্রি' বা খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিচালিত হয়) এবং এর যাজকের বিরুদ্ধে জোনিং ও নগর বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক নোটিশ বা ‘সাইটেশন’ জারি করেছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, শহর কর্তৃপক্ষ চার্চ প্রাঙ্গণ থেকে সাইকেল, লন-মোয়ার, বারবিকিউ পিট, ডাম্পস্টারসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করেছে।
সিনিয়র যাজক কার্টিস ওস্টোশ জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই চার্চটি ক্রমাগত হয়রানির কারণে আর এই পরিস্থিতি সহ্য করতে পারছে না।
তিনি দ্য নিউজ-কে বলেন, “শহর কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতিদিনই পরিদর্শক পাঠায়। তারা ছবি তোলে, ভিডিও ধারণ করে এবং জরিমানার নোটিশ দেয়। নগর বিধিমালা ও জোনিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আমাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার ডলারের জরিমানার টিকিট ইস্যু করা হয়েছে।"
ওয়ারেন শহরের আইনি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরের কাছে এখনো মামলার কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা সমন পৌঁছায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, “একই পক্ষ এবং একই বিষয়বস্তু নিয়ে চলমান অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, শহর কর্তৃপক্ষ বর্তমান অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না; বরং যেকোনো আইনি বিষয় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাবিলা করা হবে।”
অন্যদিকে, ‘হারভেস্ট টাইম’-এর আইনজীবী ডেভিড সি. পিটার্স II মামলায় উল্লেখ করেন যে, চার্চটির ধর্মীয় কার্যক্রম ম্যাকম্ব, ওকল্যান্ড এবং ওয়েইন কাউন্টির দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। একইসঙ্গে এটি নিয়মিতভাবে সুসমাচার প্রচার ও ধর্মীয় উপাসনার আয়োজন করে আসছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের আগস্টে তৎকালীন মেয়র জিম ফাউটসের প্রশাসন চার্চ ও যাজক কার্টিস ওস্টোশকে একটি ‘সেবা পুরস্কার’ প্রদান করেছিল, যা সেই সময় তাদের সমাজসেবামূলক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়েছিল।
পিটার্স II মামলায় আরও দাবি করেন যে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নতুন মেয়র লরি স্টোন নির্বাচিত হওয়ার পর শহরের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে “একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন”-এর সূচনা হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, “নতুন মেয়রের অধীনে, নগর প্রশাসন (CITY) ফেডারেল আইন, চার্চের (CHURCH) দীর্ঘদিনের জনহিতকর কাজের ইতিহাস এবং মিশিগান ও ফেডারেল সংবিধানকে উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়; এবং চার্চ ও যাজক ওস্তোশের (OSTOSH) বিরুদ্ধে হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি সুপরিকল্পিত অভিযান শুরু করে।”
ওস্তোশ জানান, নগর প্রশাসন ও মেয়র স্টোনের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি চার্চটি ‘জেন ডো’ (Jane Does) এবং ‘জন ডো’ (John Does)-দের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চার্চ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি, তার “কিছু অংশের” জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও অজানা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার ‘ডিসকভারি’ (তথ্য উদ্ঘাটন) পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় উন্মোচিত হবে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ ওয়ারেন নগর প্রশাসন ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ‘হারভেস্ট টাইম’-এর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। সেখানে একটি সম্পত্তি অধিগ্রহণে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয় এবং ওই সম্পত্তি নগর প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ওস্তোশের দাবি, ফাউটস প্রশাসনের সময় চার্চকে একটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চার্চটি নিজ উদ্যোগে সেই সম্পত্তির ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন করেছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :