আমেরিকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েল ইস্যুতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান কর্মকর্তাদের টার্গেট, ৮ জন অভিযুক্ত উত্তপ্ত বৈঠকের পর হ্যামট্রাম্যাকের সিটি ম্যানেজার আদলানিকে বরখাস্ত মিশিগানে তীব্র বজ্রঝড়ের আশঙ্কা,  হতে পারে শিলাবৃষ্টি ও টর্নেডো টানা ২০ বছর পর আজ সংসদে বাজেট দিচ্ছে বিএনপি ডেট্রয়েট রিভারে ঝড়ো হাওয়ায় উল্টে গেল ৭ নৌকা, ২০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু কাল মিশিগানে একই পরিবারের চার  সদস্যকে গুলি করে হত্যা মিশিগানের জলাশয়ের মাছ খাওয়ার আগে জেনে নিন নতুন সতর্কতা শিশু পর্নোগ্রাফি রাখার দায়ে মাউন্ট ক্লেমেন্সের এক নারীর সাজা  রেডফোর্ডে উল্টো পথে গাড়ি  চালিয়ে প্রাণ গেল চালকের ডেট্রয়েটে অ্যাপার্টমেন্টে আগুন,  আহত ৪ : ঘরছাড়া বহু পরিবার ডেট্রয়েটে অভিবাসন অভিযানে গাড়ি দুর্ঘটনা, আহত সন্দেহভাজন ভালোবাসা ও সমতার বার্তায় রঙিন ডেট্রয়েট প্রাইড প্যারেড শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড মিশিগানের নারী কারাগারে এক  মাসেরও কম সময়ে তৃতীয় বন্দির মৃত্যু চট্টগ্রামে মন্দির ইস্যুতে ইসকন ও স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে সংঘর্ষ হার্ট প্লাজায় দুই দিনের ‘মোটর সিটি  প্রাইড’, উৎসবমুখর ডেট্রয়েট গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ১০ হাজার ভক্তের সামনে হাজির হচ্ছেন লেখিকা ক্রিস্টিন হানা ডেট্রয়েটে টানা ১১ বছর ধরে বাড়ছে বাড়ির দাম হেনরি ফোর্ড হেলথে লকডাউন, অস্ত্রসহ হুমকিদাতা আটক

রাজপথের সংগঠক : তোফায়েল আহমেদ ও বাঙালির সংগ্রাম

  • আপলোড সময় : ০২-০৬-২০২৬ ০২:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৬-২০২৬ ০২:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন
রাজপথের সংগঠক : তোফায়েল আহমেদ ও বাঙালির সংগ্রাম
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যদি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক নদীর চূড়ান্ত মোহনা বলা হয়, তাহলে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই নদীর সবচেয়ে প্রবল স্রোতধারা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না; এর পেছনে ছিল ভাষা আন্দোলন, সাংবিধানিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ, সামরিক শাসনের দমননীতি, ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা মামলা এবং সর্বোপরি ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক রাজনৈতিক বিস্ফোরণ।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষিত ৬ দফা ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপরেখা। এই ৬ দফা পাকিস্তানের দুই অংশের বৈষম্য দূর করা, পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় শাসনের একচেটিয়া ক্ষমতা ভাঙার দাবি সামনে আনে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই দাবিকে বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে দমন করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে ৬ দফাই বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তির সনদে পরিণত হয়।  
এরপর ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করা এবং পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া। কিন্তু ফল হলো উল্টো। এই মামলা বাঙালির মনে আরও গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং বঙ্গবন্ধুকে পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।  আগরতলা মামলা দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিই বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং গণঅভ্যুত্থানের পথকে ত্বরান্বিত করে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ। ছাত্রসমাজ, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ তখন আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচি ৬ দফার রাজনৈতিক ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত করে গণআন্দোলনে রূপ দেয়। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল শুধু একজন নেতার মুক্তি নয়; এটি ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদা, রাজনৈতিক অধিকার এবং জাতীয় সত্তার স্বীকৃতির সংগ্রাম।  
এই গণআন্দোলনের চাপেই পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ অভিযুক্তরা মুক্তি পান, এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে তাঁকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি ছিল এক বিরাট রাজনৈতিক রূপান্তর- কারাবন্দি শেখ মুজিব সেদিন গণমানুষের হৃদয়ে জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম প্রধান নেতা। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করা, আন্দোলনের দাবি জনমানুষের ভাষায় রূপ দেওয়া এবং রাজপথের আন্দোলনকে জাতীয় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। বঙ্গবন্ধুকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করার ঐতিহাসিক ঘোষণার সঙ্গেও তাঁর নাম গভীরভাবে যুক্ত।  
ইতিহাসের আলোকে তাই বলা যায়, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানই ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক মঞ্চ প্রস্তুত করেছিল। এই গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে আগরতলা মামলা হয়তো প্রত্যাহার হতো না, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতারা হয়তো মুক্তি পেতেন না, আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতায় আগমন ঘটত না, এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পথও এত দ্রুত উন্মুক্ত হতো না। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ই পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি, অসহযোগ আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঘটনাপ্রবাহকে ঠেলে দেয়।
অতএব, ১৯৬৯ সাল ছিল ১৯৭১-এর প্রস্তুতিপর্ব—একটি জাতির চেতনার জাগরণ, নেতৃত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণের সময়। ১৯৭১ ছিল সেই জাগরণের সশস্ত্র পরিণতি। এই ধারাবাহিকতায় তোফায়েল আহমেদ শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন; তিনি ছিলেন বাঙালির মুক্তির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ—৬ দফার রাজনৈতিক চেতনা, ১১ দফার ছাত্র-জনতার সংগ্রাম, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যকার এক জীবন্ত সংযোগ।
তাই ইতিহাসের বিচারে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত রাজনৈতিক প্লট তৈরি হয়েছিল ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে। আর সেই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানীদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে- একজন ছাত্রনেতা, সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের পূর্বপ্রস্তুতির অন্যতম কণ্ঠস্বর এবং বাঙালির জাতীয় জাগরণের এক ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিশিগানে অক্সিজেন মাস্ক  খুলে মরফিন প্রয়োগে হত্যা

মিশিগানে অক্সিজেন মাস্ক  খুলে মরফিন প্রয়োগে হত্যা