ওয়ারেন, ২১ জুন : পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভাষা বদলায়, সংস্কৃতি বদলায়, মানুষের জীবনযাত্রাও বদলে যায়। কোথাও বাবা ‘ফাদার’, কোথাও ‘ড্যাড’, কোথাও ‘আব্বা’, আবার বাংলায় তিনি ‘বাবা’। শব্দের রূপ ভিন্ন হলেও অনুভূতির জায়গাটি এক ও অভিন্ন। কারণ পৃথিবীর সব ভাষার অভিধানে সবচেয়ে নির্ভরতার, সবচেয়ে নিরাপত্তার এবং সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম হলো বাবা।
আজ জুন মাসের তৃতীয় রবিবার, বিশ্ব বাবা দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষায় থাকে না বাবা-সন্তানের সম্পর্ক। প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তেই সন্তানের জীবনে বাবার অবদান নীরবে ছড়িয়ে থাকে। বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা কিংবা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিরলস পরিশ্রম করে যান।
একটি শিশুর জীবনের প্রথম সাহস, প্রথম ভরসা এবং প্রথম নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল তার বাবা। ছোট্ট দুটি হাত যখন বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাঁটা শেখে, তখনই গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য অথচ আজীবন অটুট বন্ধন। জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সন্তানের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকেন বাবা। কখনো তিনি পথপ্রদর্শক, কখনো শিক্ষক, কখনো বন্ধু, আবার কখনো কঠোর অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
মায়ের ভালোবাসা যেমন প্রকাশ্য ও আবেগঘন, বাবার ভালোবাসা অনেক সময় তেমনি নীরব ও অন্তর্মুখী। সংসারের শত দায়িত্ব, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত কষ্টের কথা না ভেবে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য জীবনভর সংগ্রাম করে যান একজন বাবা। সন্তানের সফলতায় তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন, আর সন্তানের কষ্টে সবচেয়ে বেশি ব্যথিত হন। অথচ নিজের আবেগ প্রকাশে তিনি অনেক সময়ই সংযত থাকেন।
বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন; তিনি একটি পরিবারের ভিত্তি, শক্তি এবং অনুপ্রেরণার উৎস। সন্তানকে মানুষ করার জন্য একজন বাবার যে ত্যাগ, শ্রম ও আত্মনিবেদন, তার প্রকৃত মূল্য কখনোই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ উপলব্ধি করতে শেখে- জীবনের অনেক অর্জনের পেছনে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন বাবা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরের একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো পিতাদের স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সোনোরা স্মার্ট ডড তাঁর বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফাদার্স ডে’ পালনের উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপিত হয়। পরে জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আজকের এই দিনে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। যাঁরা আজও সন্তানের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, যাঁরা দূরে থেকেও পরিবারের স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করছেন, আর যাঁরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন কিন্তু স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছেন- সকল বাবার প্রতি জানাই বিনম্র সালাম।
বিশ্ব বাবা দিবসে ‘সুপ্রভাত মিশিগান’-এর পক্ষ থেকে পৃথিবীর সকল বাবাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :