সিলেট, ২৬ জুন : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আবহমানকাল ধরেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ। এটি শুধু মুখের কথা নয়, বরং একটি শাশ্বত সত্য। অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আমরা হয়তো অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছি, কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।’ তিনি বলেন, নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য অটুট রেখেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সিলেট মহানগরীর সরদা হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সিলেট মহানগর শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মলয় পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাস। অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক ড. চন্দ্র নাথ পোদ্দার, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল লালিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য শিবু, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি।
বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য ও ধর্মীয় সহাবস্থানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতা, উদারতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েও নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ায়। এ দেশের মানুষের এই অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, ‘মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা প্যাগোডা—যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, সেগুলোর উন্নয়নে যা প্রয়োজন, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে, বাকি দায়িত্ব সরকার পালন করবে।’
তিনি আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, আসন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

উৎফল বড়ুয়া :