গাইবান্ধা, ১৩ জুলাই: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দির থেকে হরিদাস পাল তরনীদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারা হরিদাস চন্দ্র তরণীদাসকে বাইরে আসতে বলেন এবং তার মোবাইল ফোন ও মন্দিরের চাবি সঙ্গে নিতে নির্দেশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরে মন্দিরের বাইরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা জানান, রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি পুরোনো মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালের একটি মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতেই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর, অভিযোগের ধরন ও আটকের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংশ্লিষ্ট মন্দিরে অবস্থান করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস পালের আর্থিক উত্থান এবং প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় ডোম পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকা হরিদাস পাল পরবর্তীতে বিপুল সম্পদের মালিক হন। পলাশবাড়ীর কমলপুর, রামচন্দ্রপুর ও কোমরপুর এলাকায় তিনি রাধাগোবিন্দ মন্দির, কালী মন্দির, রাম মূর্তি ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেন। তবে তার সম্পদের উৎস ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। মন্দির নির্মাণকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :