আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হ্যারিসন টাউনশিপে নৌকাডুবি, তিনজন নিহত I-696-এ স্বস্তি, ১২ অক্টোবর খুলছে পশ্চিমমুখী প্রায় সব র‍্যাম্প অটো শ্রমিকদের দূত হলেন ট্রাম্প-সমর্থক প্যানেবেকার ডেট্রয়েটে অরক্ষিত বন্দুকের গুলিতে ১১ বছরের শিশু আহত ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে স্মরণ ও বিক্ষোভ নানা পাটেকর আর নেই : শেষ হলো বলিউডের এক বর্ণময় অধ্যায় মর্টগেজ ও ট্যাক্স জালিয়াতিতে ওয়ারেনের নারীকে ৫১ মাসের কারাদণ্ড মিশিগানে চার সপ্তাহের শিশুর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন : বাবার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে বড় উল্লম্ফন, ৬ সপ্তাহে ৪০ জন মিশিগানে আগাম ভোটের জোয়ার, অ্যাবসেন্টি ব্যালট ২ লাখ ছাড়াল অ্যান আরবারের দুই স্কুলে বোমা হামলার হুমকি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি এল-সায়েদ-বেনসনের প্রচারণায় ডেট্রয়েটে আসছেন বারাক ওবামা ডেট্রয়েটে নিরাপদ গ্রীষ্ম, অপরাধের হার নিম্নমুখী মিশিগানে ভোটের মাঠে ফের নামছেন ট্রাম্প ইকরসে ট্রেনের ধাক্কায় শিশু নিহত, হাসপাতালে মা-মেয়ে মদ্যপ অবস্থায় ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে সংঘর্ষ,  ডেট্রয়েট পুলিশ কর্মকর্তার  বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্গাপূজায় মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অভিন্ন সমৃদ্ধির অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বার্মিংহামে নিজের গাড়ির নিচে  চাপা পড়ে শ্রমিক নিহত
সরব ছিল সাংস্কৃতিক মঞ্চ

মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা 

  • আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা 
ওয়ারেন, ২৪ আগস্ট : বইকে ঘিরে যে মেলা, সেখানে পাঠকের পদচারণাই যেন প্রাণের স্পন্দন। মিশিগান বইমেলার প্রথম দিন সেই স্পন্দনে মুখর হয়ে উঠলেও শেষ দিনে এসে যেন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ল প্রাণের সেই ঢেউ। গতকাল শেষ হয়েছে বই ও সংস্কৃতির এই আয়োজন। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর উপস্থিতি যেমন কমেছে, তেমনি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে বই বিক্রিও। সব মিলিয়ে বই ও পাঠকের সম্পর্ক যেন এই মুহূর্তে একটু ধীর পায়ে হাঁটছে।
মেলার বিভিন্ন স্টলে সারি সারি বই সাজানো—কোথাও নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, কোথাও মলাটে জমে থাকা অক্ষরের আহ্বান। অথচ অনেক স্টলেই দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বিক্রেতারা ব্যস্ত নন ক্রেতার ভিড়ে; বরং অপেক্ষার দীর্ঘ সময়ে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে তাঁদের। প্রকাশকদের কণ্ঠেও তাই ছিল হতাশার সুর। তারা এবারকার বিক্রির চিত্রে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, বইমেলার প্রাণ হলো পাঠক, আর পাঠকের হাতে বই ওঠার মধ্যেই মেলার সার্থকতা। কিন্তু এবার সেই প্রাণের স্পন্দন কিছুটা ম্লান। কাপড় ও গহনার স্টলগুলোর চিত্রও ছিল প্রায় একই। বাহারি পোশাক, নকশাদার শাড়ি আর ঝলমলে গহনার পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু প্রত্যাশিত ক্রেতার ভিড় না থাকায় সেসব স্টলেও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা আর নীরবতার ছাপ। মেলার প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালে সেখানে যেন বিক্রির হতাশারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। তবে মেলার সার্বিক বেচাকেনায় মন্দার চিত্রের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল খাবারের একমাত্র স্টলটি। সেখানে দিনভর ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল তুলনামূলক বেশি।
তবে বইয়ের পাতায় পাঠকের আনাগোনা কিছুটা কম হলেও সংস্কৃতির মঞ্চে প্রাণের কোনো ঘাটতি ছিল না। কবিতা, গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশে শেষ দিনের আয়োজন হয়ে ওঠে শিল্পের এক বর্ণিল সমাবেশ।
কবি ও কবিতার আসরে স্বরচিত ও নির্বাচিত কবিতা পাঠ করেন নারায়ণ গুপ্ত, শামসাদ হুসাম, কল্যাণী দেব চৌধুরী, কবি সুবিমল সেনাপতি, কবি সীমা আহমেদ, সঞ্জয় দেব, পপি দাস, শর্মিলা দেব, তন্ময় আচার্য, শুভ্রা দাস, মানবী মৃধা, ফাতেমা বেগম, সেলিনা শিল্পী, শাহীন ইসলাম এবং ঠাকুর মণ্ডল। তাঁদের কণ্ঠে কবিতার উচ্চারণে মেলার প্রাঙ্গণে ফিরে আসে শব্দের নিজস্ব এক মায়াবী আবেশ।
এরপর অন্তরা অন্তির পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘মঞ্চে বাংলার রূপ’। এতে অংশ নেন বাংলা স্কুল অব মিউজিকের শিল্পীরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শর্মী চক্রবর্তী, শতাব্দী দেব, পূর্ণিমা দেব, পিউলি চক্রবর্তী, গোপেন্দ্র দাস, রূপা ভট্টাচার্য, অত্রি রায় ও মৌরাজ অংকন। বেহালার সুরে আবেশ ছড়ান সামান্তা চৌধুরী মেঘা।
হারান কান্তি সেনের রচনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দম’। এতে কমেডি খবর পাঠ করে দর্শকদের হাসির খোরাক জোগান মৌমিতা চৌধুরী। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শুভ্রা দাশ ও শ্রাবন্তী পাল আঁখি; গিটারে ছিলেন অমিত সেন।
নৃত্যে মঞ্চ মাতান শায়ন চৌধুরী, দিয়া দত্ত ও শ্রীজিতা দেব। আবৃত্তি করেন শাহীন ইসলাম। নাট্যাংশে অভিনয় করেন সঞ্জয় দেব ও শর্মিলা দেব।
বইমেলার শেষ দিনে তাই একদিকে ছিল বই বিক্রির ম্লান হিসাব, অন্যদিকে সংস্কৃতির মঞ্চে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস। বাণিজ্যের খাতায় হয়তো এবারের মেলা প্রত্যাশার আলো জ্বালতে পারেনি, কিন্তু কবিতা, গান, নৃত্য আর নাট্যের ভেতর দিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক শিকড়ের যে উজ্জ্বল উপস্থিতি দেখা গেল সেটিই হয়তো এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
কারণ বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি পাঠক, লেখক, শিল্পী আর সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মিলনভূমি। সেই মিলন যেন আরও গভীর হয়, আগামী দিনে বইয়ের স্টলে আবারও ফিরুক পাঠকের ভিড় আর অক্ষরের প্রতি ভালোবাসার সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাসে। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি : ‘জনতার পাশে দাঁড়ান’ 

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি : ‘জনতার পাশে দাঁড়ান’