আমেরিকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ , ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা  ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলে গাড়ি থেকে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ আহত ৪ ডেট্রয়েটের একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার বেলুন উড়িয়ে মিশিগান বইমেলার উদ্বোধন চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে  ৪৮ বছর’ সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে : ডা. দেবাশীষ মৃধা রংপুরে এক পরিবারের চারজনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ও চাঞ্চল্য ডেট্রয়েটে ফেন্টানিলের ‘৮৫ লাখ  সম্ভাব্য প্রাণঘাতী ডোজ’ জব্দ আনন্দ মঞ্চে আজ উঠছে মিশিগান বইমেলার পর্দা ডিয়ারবর্নে গ্রেপ্তারের সময় দুই পুলিশ ও সন্দেহভাজন গুলিবিদ্ধ মন্ত্রিসভায় ছয় নতুন সদস্য, শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল প্রাদুর্ভাবের দুই মাস পর স্বস্তি, মিশিগানে কমছে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস বরখাস্তের জেরে হ্যামট্রাম্যাক কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি ম্যানেজারের মামলা নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, আগামীকাল শপথ মিশিগানের স্কুলে মোবাইল ফোন  ব্যবহারে আরও কঠোর হচ্ছে নিয়ম মিশিগানে ২০২১ সালের পর প্রথম ইইই রোগী শনাক্ত ডিয়ারবর্নে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ  ঘিরে উত্তেজনা, উঠল সম্প্রীতির বার্তাও নারীর গাড়িতে গোপনে ট্র্যাকিং ডিভাইস : আদালতে মেকানিক মিশিগানে পেট্রোলের দামে ঊর্ধ্বমুখী অস্থিরতা ৪ বার গুলিবিদ্ধ হয়েও বীরত্ব, ৯১১-এ ফোন কিশোরীর : ‘সে একজন বীর’
সরব ছিল সাংস্কৃতিক মঞ্চ

মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা 

  • আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা 
ওয়ারেন, ২৪ আগস্ট : বইকে ঘিরে যে মেলা, সেখানে পাঠকের পদচারণাই যেন প্রাণের স্পন্দন। মিশিগান বইমেলার প্রথম দিন সেই স্পন্দনে মুখর হয়ে উঠলেও শেষ দিনে এসে যেন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ল প্রাণের সেই ঢেউ। গতকাল শেষ হয়েছে বই ও সংস্কৃতির এই আয়োজন। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর উপস্থিতি যেমন কমেছে, তেমনি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে বই বিক্রিও। সব মিলিয়ে বই ও পাঠকের সম্পর্ক যেন এই মুহূর্তে একটু ধীর পায়ে হাঁটছে।
মেলার বিভিন্ন স্টলে সারি সারি বই সাজানো—কোথাও নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, কোথাও মলাটে জমে থাকা অক্ষরের আহ্বান। অথচ অনেক স্টলেই দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বিক্রেতারা ব্যস্ত নন ক্রেতার ভিড়ে; বরং অপেক্ষার দীর্ঘ সময়ে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে তাঁদের। প্রকাশকদের কণ্ঠেও তাই ছিল হতাশার সুর। তারা এবারকার বিক্রির চিত্রে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, বইমেলার প্রাণ হলো পাঠক, আর পাঠকের হাতে বই ওঠার মধ্যেই মেলার সার্থকতা। কিন্তু এবার সেই প্রাণের স্পন্দন কিছুটা ম্লান। কাপড় ও গহনার স্টলগুলোর চিত্রও ছিল প্রায় একই। বাহারি পোশাক, নকশাদার শাড়ি আর ঝলমলে গহনার পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। কিন্তু প্রত্যাশিত ক্রেতার ভিড় না থাকায় সেসব স্টলেও ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা আর নীরবতার ছাপ। মেলার প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালে সেখানে যেন বিক্রির হতাশারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। তবে মেলার সার্বিক বেচাকেনায় মন্দার চিত্রের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল খাবারের একমাত্র স্টলটি। সেখানে দিনভর ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল তুলনামূলক বেশি।
তবে বইয়ের পাতায় পাঠকের আনাগোনা কিছুটা কম হলেও সংস্কৃতির মঞ্চে প্রাণের কোনো ঘাটতি ছিল না। কবিতা, গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশে শেষ দিনের আয়োজন হয়ে ওঠে শিল্পের এক বর্ণিল সমাবেশ।
কবি ও কবিতার আসরে স্বরচিত ও নির্বাচিত কবিতা পাঠ করেন নারায়ণ গুপ্ত, শামসাদ হুসাম, কল্যাণী দেব চৌধুরী, কবি সুবিমল সেনাপতি, কবি সীমা আহমেদ, সঞ্জয় দেব, পপি দাস, শর্মিলা দেব, তন্ময় আচার্য, শুভ্রা দাস, মানবী মৃধা, ফাতেমা বেগম, সেলিনা শিল্পী, শাহীন ইসলাম এবং ঠাকুর মণ্ডল। তাঁদের কণ্ঠে কবিতার উচ্চারণে মেলার প্রাঙ্গণে ফিরে আসে শব্দের নিজস্ব এক মায়াবী আবেশ।
এরপর অন্তরা অন্তির পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘মঞ্চে বাংলার রূপ’। এতে অংশ নেন বাংলা স্কুল অব মিউজিকের শিল্পীরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শর্মী চক্রবর্তী, শতাব্দী দেব, পূর্ণিমা দেব, পিউলি চক্রবর্তী, গোপেন্দ্র দাস, রূপা ভট্টাচার্য, অত্রি রায় ও মৌরাজ অংকন। বেহালার সুরে আবেশ ছড়ান সামান্তা চৌধুরী মেঘা।
হারান কান্তি সেনের রচনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দম’। এতে কমেডি খবর পাঠ করে দর্শকদের হাসির খোরাক জোগান মৌমিতা চৌধুরী। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শুভ্রা দাশ ও শ্রাবন্তী পাল আঁখি; গিটারে ছিলেন অমিত সেন।
নৃত্যে মঞ্চ মাতান শায়ন চৌধুরী, দিয়া দত্ত ও শ্রীজিতা দেব। আবৃত্তি করেন শাহীন ইসলাম। নাট্যাংশে অভিনয় করেন সঞ্জয় দেব ও শর্মিলা দেব।
বইমেলার শেষ দিনে তাই একদিকে ছিল বই বিক্রির ম্লান হিসাব, অন্যদিকে সংস্কৃতির মঞ্চে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস। বাণিজ্যের খাতায় হয়তো এবারের মেলা প্রত্যাশার আলো জ্বালতে পারেনি, কিন্তু কবিতা, গান, নৃত্য আর নাট্যের ভেতর দিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক শিকড়ের যে উজ্জ্বল উপস্থিতি দেখা গেল সেটিই হয়তো এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
কারণ বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি পাঠক, লেখক, শিল্পী আর সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মিলনভূমি। সেই মিলন যেন আরও গভীর হয়, আগামী দিনে বইয়ের স্টলে আবারও ফিরুক পাঠকের ভিড় আর অক্ষরের প্রতি ভালোবাসার সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাসে। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলে গাড়ি থেকে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ আহত ৪

ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলে গাড়ি থেকে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ আহত ৪