আমেরিকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মামলার চাপে হ্যামট্রাম্যাক: সামনে  বহু-মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ঝুঁকি ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ সাংবাদিকতার  অনন্য দলিল -ভিসি ড. জহিরুল হক আকাশপথে অসুস্থ ক্যাপ্টেন, ডেট্রয়েটে নামল ডেল্টার ফ্লাইট ট্রয় হাসপাতালে ৪৪০ মিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্প ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ওয়েইন কাউন্টির বাসিন্দার শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র বার্মিংহামে মারামারি নিয়ে উদ্বেগ, নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ মিশিগানজুড়ে আজ ঝড়-বৃষ্টি, টর্নেডোর সতর্কতা কানাডার সঙ্গে বিরোধে লেক অন্টারিওর নাম বদলাতে চান ট্রাম্প ভাড়ার বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডেট্রয়েটের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ডিয়ারবর্ন হাইটসে পারিবারিক বিরোধে নারী নিহত, আহত ১ ফ্রেজারে প্রাণঘাতী ‘হিট-এন্ড-রান’, ফ্লক ক্যামেরায় চালক শনাক্ত ও গ্রেপ্তার ইঙ্কস্টারে ডলার ট্রিতে নারীকে ছুরিকাঘাত, যুবক আটক মিশিগানের মুসলিম সংগঠনের অফিসে হত্যার হুমকি হবিগঞ্জে উন্মোচিত হলো চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ মিশিগান বইমেলার শেষদিনে পাঠকের ভাটা, বিক্রিতেও মন্দা  ডেট্রয়েটের পূর্বাঞ্চলে গাড়ি থেকে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ আহত ৪ ডেট্রয়েটের একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার বেলুন উড়িয়ে মিশিগান বইমেলার উদ্বোধন

‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ সাংবাদিকতার  অনন্য দলিল -ভিসি ড. জহিরুল হক

  • আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০২:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০২:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ সাংবাদিকতার  অনন্য দলিল -ভিসি ড. জহিরুল হক
সিলেট, ৩০ আগস্ট: সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ অভ্র প্রকাশনীর ‘অভ্র সেন্টারে’ আজ সন্ধ্যা ৭টায় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক চিন্ময় আচার্যের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ ও মদন মোহন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। লেখক, সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও গ্রন্থের প্রকাশক অপূর্ব শর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক, লেখক ও অনুবাদক মিহির কান্তি চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল বলেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক চিন্ময় আচার্য রচিত ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা নয়; এটি চার দশকেরও বেশি সময়ের সাংবাদিকতা, সমাজ, মানুষ ও সময়ের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ এবং সাংবাদিকরা সেই সমাজের কারিগর। সমাজের বস্তুনিষ্ঠ সত্য তুলে ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
লেখক চিন্ময় আচার্যের সঙ্গে নিজের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে উপাচার্য বলেন, ‘আমি হবিগঞ্জের মানুষ। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক চিন্ময় আচার্য ও আমি সহকর্মী ছিলাম। আমি হবিগঞ্জের বহুল প্রচারিত দৈনিক খোয়াই পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সুবাদে তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার সুযোগ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্মৃতির পথে আটচল্লিশ বছর’ গ্রন্থটির বিশেষত্ব হলো—এতে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মানুষের হাসি-কান্না, বন্ধুত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক আবেগ এবং জীবনের নানা সংকট ও বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে। লেখক তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি জীবনের দ্বিধা, সীমাবদ্ধতা ও আত্মসমীক্ষার কথাও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও আঞ্চলিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, একবার এক পর্যটক শায়েস্তাগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জের ১৪টি স্থানীয় পত্রিকা কিনেছিলেন। কিন্তু সেসব পত্রিকার পাতাজুড়ে খুন, সংঘাতসহ নানা অপরাধের খবর দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে হবিগঞ্জে না নেমে পরবর্তী ট্রেনে সরাসরি সিলেটে চলে যান।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, অপরাধ ও সংঘাত পৃথিবীর সব দেশেই ঘটে। এমনকি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশেও কিশোর গ্যাং ও নানা ধরনের অপরাধ রয়েছে। তবে মফস্বল সাংবাদিকদের একই সঙ্গে নানা বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হয় এবং সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়।
সিলেটে সিভিল সোসাইটির ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক আমিনুর রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সিলেট সফরে এসে আমিনুর রশীদ চৌধুরীর বাসভবনে অতিথি হয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকেই তৎকালীন সিলেটের সুশীল সমাজের সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিলেটের ঝিমিয়ে পড়া সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে ‘অভ্র সেন্টার’ গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে নিজেদের জীবনসংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়ে আত্মজীবনী লেখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত গুণীজনদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, লেখক ও সংস্কৃতিজন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এসআইইউ)-এর ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রনব কান্তি দেব, লেখক প্রফেসর স্বপন নাথ, কবি ও ব্যাংকার সুমন বণিক, সহকারী অধ্যাপক হিমাংশু রঞ্জন দাস, ‘অনলাইন সিলেট’ সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাকিম আহম্মদ কাওছার, সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল হক মামুন, কবি রাহনামা সাব্বির চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক হাসিনা ফেরদৌস, প্রিন্সিপাল সেনুয়ারা আক্তার চিনু, কবি ও সংগঠক রওশনারা বাঁসি, চিত্রশিল্পী আবদুল মালিক, ছড়াকার অজিত রায় ভজন, প্রভাষক রাজিব আচার্য ও দিলীপ চক্রবর্তী।
এছাড়াও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সৌরভ গোপ, মোহাম্মদ তোহা, নারীনেত্রী রুনা সুলতানা, মহিবুর রহমানসহ সিলেটের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এসআইইউ)-এর ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রনব কান্তি দেব বলেন, ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইটি প্রকাশের পর থেকেই নানা কারণে আলোচিত একটি গ্রন্থ। আমাদের হবিগঞ্জের কৃতী সন্তান চিন্ময় আচার্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থান করছেন। তাঁর স্মৃতিগ্রন্থ নিয়ে নানা আলোচনা ও সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বইটি সম্পর্কে জানার ও বোঝার জন্য আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।
তিনি বলেন, বিশিষ্ট রবীন্দ্রগবেষক, লেখক ও অনুবাদক মিহির কান্তি চৌধুরীর কাছ থেকে যে সুলিখিত প্রবন্ধটি পেয়েছি, আমার মনে হয় এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি লেখা। দীর্ঘ এই গ্রন্থ নিয়ে প্রবন্ধ লেখা ও তা উপস্থাপন করা নিঃসন্দেহে একটি কষ্টসাধ্য কাজ। দায়বোধ ও আন্তরিকতা না থাকলে এ ধরনের কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয়। এই পরিশ্রমসাধ্য কাজটি তুলে ধরার জন্য প্রাবন্ধিক মিহির কান্তি চৌধুরীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইটির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এক পলকে যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে—আমাদের একটি প্রচলিত কথা আছে, ‘স্মৃতিরা কখনো ধারাবাহিকভাবে আসে না।’ স্মৃতি মানেই অতীত। আর সেই অতীতকে যদি আমরা স্মৃতির মতো করেই কোথাও উপস্থাপন করতে চাই, তাহলে তার নিজস্ব একটি ধারা ও অনুভব থাকে। আমার মনে হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ রচিত হয়েছে।
আমার মনে হয়েছে, এটি আসলে শুধু একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিগ্রন্থ হয়ে উঠেছে।

‘অনলাইন সিলেট’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাকিম আহম্মদ কাওছার বলেন, ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইয়ে যেসব পত্রিকার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো মূলত আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত আমাদের খুব কাছের ছিল। সে সময় অক্ষর বিন্যাস করে পত্রিকা প্রকাশ করা হতো। আমরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে সেসব পত্রিকা দেখতাম এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের আদর্শ মনে করতাম।
তিনি বলেন, একজন মানুষের বেড়ে ওঠা এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর পত্রিকা পরিবর্তনের যে ধারাবাহিকতা—আমি মনে করি, একজন মানুষ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার সঙ্গে এর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একসময় তিনি শাবান ভাইকে নিয়ে ‘প্রতিদিনের বাণী’ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। হবিগঞ্জে যাকে আধুনিক সংবাদপত্রের সূচনা বলা যায়, সেটিও তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইয়ে সেই সময়ের সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ পথচলার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  আমি আজ দাদাকে স্মৃতিতে আনতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। 


সাংবাদিক আব্দুল হক মামুন বলেন, “চিন্ময় দাদার ‘হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস’ পত্রিকার মাধ্যমে আমার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। তাঁর হাত ধরেই সাংবাদিকতার পথচলায় আমার প্রবেশ। আজ তাঁর লেখা ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে সত্যিই ধন্য মনে করছি।

কবি ও ব্যাংকার সুমন বণিক বলেন, “লেখক চিন্ময় আচার্য একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ। জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে সঞ্চিত তাঁর অভিজ্ঞতার ফসল হচ্ছে ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’। লেখকের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং জীবনের অসংখ্য ঘটনা ও অভিজ্ঞতার আলোকেই বইটি রচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য মিহিরদাকে অশেষ ধন্যবাদ। তাঁর মতো একজন আলোকিত মানুষের পাশে এসে আজ কিছু বলতে পারছি—এটিকেও আমি আমার জীবনের পরম সৌভাগ্য বলে মনে করি।”
তিনি বলেন, “এখানে উপস্থিত সবাই আলোকিত মানুষ। তাঁদের পাশে এসে কথা বলতে পারাটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের। লেখক ও সাংবাদিক চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থটি আমার কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। তিনি প্রবাসজীবনে থেকেও বাংলাদেশের প্রতি যে টান, ভালোবাসা ও মমত্ববোধ হৃদয়ে ধরে রাখতে পেরেছেন, এই বইটি তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন।”

কবি রাহনামা সাব্বির চৌধুরী বলেন, “লেখক চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইটি আমরা হাতে পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়ব। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছে, বইটি ব্যতিক্রমধর্মী। আশা করি, ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ পাঠকমহলে সমাদৃত হবে এবং পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করবে।”

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ও সহকারী অধ্যাপক হিমাংশু রঞ্জন দাস বলেন, “‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ লেখকের দীর্ঘ ও কঠোর সংগ্রামী জীবনের একটি স্মৃতিকথা। লেখক বর্তমানে মিশিগানে অবস্থান করছেন। সেই প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলা-ইংরেজির মিশেলে বইটি একটি অনবদ্য রচনা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। এখানে আমি যে বিষয়টি দেখেছি, তা হলো—এটি একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ স্মৃতিকথা হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, “আজ বইটির ওপর যে চমৎকার প্রবন্ধ পাঠ করা হয়েছে, আমার মনে হয়, সেই প্রবন্ধ পাঠের পর এখানে আমাদের আলাদাভাবে আর বেশি কিছু বলার থাকে না। প্রবন্ধটির মধ্যেই বইটির মূল বিষয় ও তাৎপর্য সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।”

প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তোহা এত সুন্দর একটি গ্রন্থ উপহার দেওয়ার জন্য লেখক চিন্ময় আচার্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রজন্মের আমরা ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইটি থেকে অনেক কিছু শিখতে পারব। বইটি সম্পর্কে জানার পর এর ভেতরের বিষয়গুলো জানার প্রতি আমার আগ্রহ আরও বেড়েছে। 

নারীনেত্রী রুনা সুলতানা বলেন, “বইটি নিয়ে যে বক্তব্য ও প্রবন্ধ আমরা শুনলাম, তাতে ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’-এর সারসংক্ষেপ অনেকটাই উঠে এসেছে। আমার মনে হয়েছে, এই বইয়ের মধ্যে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং মানুষের জীবনের নানা বাস্তবতা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। অনেক ধন্যবাদ লেখককে। 

সহযোগী অধ্যাপক হাসিনা ফেরদৌস বলেন, “চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থের ওপর প্রবন্ধ পাঠ শুনলাম। একজন সাংবাদিকের জীবনবোধ ও বাস্তবতার আলোকে মানুষের ভাবনাকে যেভাবে নাড়া দিতে পারে, অন্য কোনো কিছু হয়তো আমাদের সেভাবে নাড়া দিতে পারে না। 
তিনি বলেন,  লেখক চিন্ময় আচার্যের এই গ্রন্থ যুগের চাহিদা অতিক্রম করে পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিক। গ্রন্থটির জন্য রইল আমার আন্তরিক শুভকামনা।”

প্রিন্সিপাল সেনুয়ারা আক্তার চিনু বলেন, “আমি যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছি, সেখানে আমি অতীব নগণ্য একজন। ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইটি আগে হাতে পাইনি। এখানে এসে যতটুকু দেখেছি ও জেনেছি, তাতেই বুঝতে পেরেছি—লেখক ও সাংবাদিক চিন্ময় আচার্যের এই গ্রন্থটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, “লেখকের নামের সঙ্গে আমার নামের একটি মিল আছে। আমি চিনু, তিনি চিন্ময়। এইটুকু মিল তো আছেই। আরেকটি মিল হলো—তাঁর জন্ম হবিগঞ্জ জেলায় এবং তিনি বৃন্দাবন কলেজে পড়াশোনা করেছেন। আমার মেয়ের জামাইও বৃন্দাবন কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং তাঁর বাড়িও হবিগঞ্জে।”
‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ বইয়ের একটি ঘটনা তাঁর বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুনারুঘাটে একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখকের একটি জোরালো লেখা আমার চোখে আটকে গেছে। আসলে সাংবাদিকদের এমনই হওয়া উচিত। তাঁদের দুরন্তপনা ও সাহসী লেখনির মাধ্যমে সমাজের মানুষকে সঠিক পথ দেখাবে। আমি দেখেছি, একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ধারাবাহিকভাবে লিখেছিলেন। এ কারণে তাঁকে জীবন্ত পুঁতে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি গল্পটির শেষটা জানতে চেয়েছিলাম—শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল। দেখলাম, তাঁর পাশে বেশ কিছু গুণী মানুষ ছিলেন, যারা তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিজয় হয়েছে তাঁরই। এটিই আসলে একজন সাংবাদিকের সার্থকতা। প্রতিকূলতা বা হুমকিতে ভেঙে পড়লে হবে না। আপনাদের এই সাহস ও উৎসাহ নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ, এসব লেখাই সময় ও জীবনের ধারক-বাহক।”
সেনুয়ারা আক্তার চিনু বলেন, “একজন লেখক যুগে যুগে, জন্ম থেকে জন্মান্তরে তাঁর লেখনির মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। একজন মানুষকে হয়তো বেশিদিন মনে রাখা হয় না, কিন্তু তাঁর লেখনী ও কর্মযজ্ঞ তাঁকে স্মৃতির পাতায় অমর করে রাখে।

কবি ও সংগঠক রওশনারা বাঁসি বলেন, “আমি ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থটি পড়ব এবং দেখব এতে কী কী লেখা হয়েছে। বইটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সুন্দর একটি বই উপহার দেওয়ার জন্য লেখক চিন্ময় আচার্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

মহিবুর রহমান বলেন, “কবির ভাষায় বলতে চাই—‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে।’ দাদা আসলে ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ ধরে যে পথ পাড়ি দিয়েছেন, আজ সেই দীর্ঘ পথচলার একটি প্রকাশ ঘটেছে এই গ্রন্থের মাধ্যমে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রকাশনার মধ্য দিয়ে তাঁর সৃষ্টিশীল পথচলা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁর কর্ম ও লেখনী আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।”

চিত্রশিল্পী আবদুল মালিক ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থের লেখক চিন্ময় আচার্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আগামী দিনের সৃষ্টিশীল পথচলার সাফল্য কামনা করেন।

প্রভাষক রাজিব আচার্য বলেন, “লেখক চিন্ময় আচার্য আমার চাচাতো বড় ভাই। আজ এখানে একটি কথা না বললেই নয়—আমাদের লেখালেখির এই প্রবণতাকে আমি এক অর্থে পারিবারিক বা জেনেটিক প্রভাব বলতে পারি। ব্রিটিশ আমলে আমাদের দাদা লেখালেখি করতেন। তিনি অসংখ্য নাটক, গান ও মঞ্চনাটক রচনা করেছেন। তাঁর সেই সৃষ্টিশীলতার রেশ হয়তো আমাদের মধ্যেও কোনো না কোনোভাবে এসেছে।
তিনি বলেন, “সময়ের সঙ্গে সেই ধারাবাহিকতায় আমিও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে আমার চারটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে—কবিতা, উপন্যাস ও শিশুতোষ গ্রন্থ। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকগুলোতেও নিয়মিত লেখালেখি করি। আজকের এই সুন্দর আয়োজনের জন্য আমি আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে আপনাদের ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ছড়াকার অজিত রায় ভজন বলেন, “একজন মানুষকে ঘিরে আজকের এই আয়োজন। নিঃসন্দেহে এত সুন্দর ও প্রাণবন্ত আয়োজন দেখলেই বোঝা যায়, লেখক চিন্ময় আচার্য কোন পর্যায়ের একজন মানুষ ও লেখক। সুদূর আমেরিকায় অবস্থান করেও তিনি তাঁর লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন—এজন্য আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁর এই চমৎকার গ্রন্থ ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা রইল।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সৌরভ গোপ বলেন, “লেখক চিন্ময় আচার্য আমাদের হবিগঞ্জের সন্তান—এজন্য আমি গর্ববোধ করি। বইটি যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে, ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ আমাদের ছাত্রজীবনের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। 

দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, “‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থটির আরও সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। বইটি আরও দূর এগিয়ে যাক এবং পাঠকের কাছে সমাদৃত হোক। একই সঙ্গে গ্রন্থটির লেখক চিন্ময় আচার্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।”

মূল আলোচক প্রফেসর স্বপন নাথ বলেন, বাংলাদেশে এখনো স্মৃতিকথা ও আত্মকথার একটি শক্তিশালী ধারা গড়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে যারা স্মৃতিকথা বা আত্মকথা লিখবেন, তাদের ব্যক্তিগত স্মৃতির পাশাপাশি সময় ও সমাজের একটি নৈর্ব্যক্তিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করতে হবে।
চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ গ্রন্থ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বইটি হাতে পাওয়ার পর মাত্র দুদিনের মধ্যেই পুরো বইটি পড়েছেন। লেখক ভবিষ্যতে আরও লিখবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্মৃতিকথা অনেক সময় ব্যক্তিনির্ভর বা ‘সাবজেক্টিভ’ হয়ে যায়; তাই এর সঙ্গে ‘অবজেক্টিভ’ দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় জরুরি।
সাংবাদিকদের স্মৃতিকথার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি মুনাজাত উদ্দিন, মার্ক টার্লি, ল্যারি কিং ও সেমুর হার্শের মতো সাংবাদিকদের লেখার উদাহরণ দেন। তাঁর মতে, একজন সাংবাদিকের স্মৃতিকথা শুধু ব্যক্তিজীবনের বিবরণ নয়, বরং একটি সময়, সমাজ ও সাংবাদিকতার পরিবর্তনের দলিলও হয়ে উঠতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রফেসর স্বপন নাথ বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের তথ্য ও ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহার করছে। ফলে মানুষের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডও একসময় পণ্যে পরিণত হচ্ছে। এই বাস্তবতা সাংবাদিকতা ও সমাজ—উভয়ের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, আজকের সাংবাদিকতা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই যারা সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত, তাদের লেখার মান ও যোগ্যতার প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিক ও লেখকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো লেখা শুধু ব্যক্তির পরিচয় তৈরি করে না, একটি সময়ের ইতিহাসও সংরক্ষণ করে।
সবশেষে তিনি ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’-এর প্রকাশনা আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, আয়োজনের ধরন ও উপস্থাপনা তাঁর কাছে ব্যতিক্রমী ও মুগ্ধকর মনে হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মদন মোহন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, “আমার মনে হয়, আমার আর কথা নেই। ফাঁকে ফাঁকে অনেক কথাই বলে ফেলেছি। তবে হবিগঞ্জের নাম শুনলেই কেন জানি মনে হয়, কিছু স্মৃতি ভারাক্রান্ত করে তোলে। যেহেতু আমার জন্ম হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায়। আর নবীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে চিন্ময় আচার্যেরও একটি আত্মিক সংযোগ রয়েছে, সেটিও আমি জানি।”
তিনি বলেন, “সেই অর্থে বলব, ছোটবেলায় বাবা-চাচাদের মুখে হবিগঞ্জ শহরের নানা গল্প শুনতাম। তাঁদের কাছে শুনেছি, খুরশেদ আলম এসডিও ছিলেন। তিনি হাফপ্যান্ট পরে লাঠি হাতে রাতে অথবা ভোরবেলা সড়ক প্রদক্ষিণ করতেন। বড়দের মুখে শুনতে শুনতে সেই স্মৃতিটা আমার মধ্যেও গেঁথে গিয়েছিল। একবার ডিসি অফিসে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশ হওয়ার আগে কিংবা ব্রিটিশ আমলে যারা এসডিও ছিলেন, তাঁদের তালিকা পাওয়া যাবে কি না। তারা বলল, এগুলো তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এসব আর নেই। আমি ভাবলাম, আগের এসডিওদের তালিকাও থাকবে না—এটা কেমন কথা!”
প্রফেসর ফাত্তাহ বলেন, “সেই খুরশেদ আলম পরবর্তীতে আমাদের সিলেটের ডিসি হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি পাকিস্তানে বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর উদ্যোগেই আজমিরীগঞ্জে নৌকাবাইচের সূচনা হয়েছিল। এখনও এটি ধীরে ধীরে চলছিল, আবার কখনো থেমেও যায়। বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখনও আজমিরীগঞ্জে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিছুদিন আগে সেখানে গিয়ে শুনলাম, এটি এখন বন্ধ আছে। অন্যান্য জায়গায় নৌকাবাইচ হচ্ছে, অথচ এখানে হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য, চিন্তা-চেতনা, রাজনৈতিক মনন ও জিজ্ঞাসার অনেক কিছুই আজ অভ্র সেন্টারকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসছে। এখানে যদি কিছু বিশুদ্ধ চিন্তার বীজ আমাদের মধ্যে দানা বাঁধে, তাহলে হয়তো সৃজনশীল কিছু তৈরি হতে পারে।”
দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “বুদ্ধিজীবী শ্রেণি আর নেই এদেশে। অনেকটাই বিনাশ হয়ে গেছে। এই শ্রেণি আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে কি না, জানি না। কিন্তু তারপরও আমরা আশাবাদী। কিছুসংখ্যক সমমনা মানুষ যদি এক জায়গায় মিলিত হতে পারি, তাহলে সৃজনশীল কিছু একটা তৈরি হতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমাদের চিন্তাশক্তি, দূরদৃষ্টি, অভীপ্সা, সমাজভাবনা এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস—এসব গুণ যদি আমরা ধারণ করতে পারি, তাহলে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে হয়তো আমাদের সমাজে একটি পরিবর্তন আসতে পারে। আর সেই পরিবর্তন আসতেই হবে।”
‎আলোচনা সভা শেষে শিল্পী বিমান তালুকদারের মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ নিয়ে যা বললেন প্রফেসর স্বপন নাথ

চিন্ময় আচার্যের ‘স্মৃতির পথে ৪৮ বছর’ নিয়ে যা বললেন প্রফেসর স্বপন নাথ